ঢাকার সাভারের গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে ফের উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আদালতের সাম্প্রতিক আদেশকে ঘিরে শনিবার (২৫ জুলাই) সাভার ক্যাম্পাসে উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ওঠে।
বর্তমান ট্রাস্টি বোর্ডের অভিযোগ, ডা. নাজিমউদ্দিন আহমেদ কয়েকশ অনুসারী নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় গণস্বাস্থ্য ফার্মাসিউটিক্যালসে ভাঙচুর, সিসিটিভি ক্যামেরা ও একটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত করা হয় এবং এক নিরাপত্তাকর্মীকে মারধর করা হয় বলে দাবি তাদের।
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পরিচালক (ভূমি প্রশাসন) মোহাম্মদ আবদুস সালাম বলেন, আদালতের আদেশের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে ডা. নাজিমউদ্দিন আহমেদ ৩০০ থেকে ৩৫০ জন লোক নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন শিরীন হক দাবি করেন, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর মৃত্যুর পর থেকেই ডা. নাজিমউদ্দিন আহমেদ প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি করে আসছেন। বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ডা. নাজিমউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, আদালতের আদেশ অনুযায়ী বৈধভাবেই তিনি গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে প্রবেশ করেছেন। তার সঙ্গে থাকা কেউ ফার্মাসিউটিক্যালসে যায়নি। বরং বর্তমান কর্তৃপক্ষ নিজেরাই ভাঙচুর চালিয়ে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে।
তিনি আরও দাবি করেন, আদালতের আদেশ অনুযায়ী বিতর্কিত দলিলগুলোর কার্যকারিতা চার মাসের জন্য স্থগিত রয়েছে এবং পুরোনো দলিল অনুযায়ী তিনিই প্রতিষ্ঠানের বৈধ দায়িত্বপ্রাপ্ত।
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের সিইও এএইচ এম শফিকুজ্জামান বলেন, ডা. নাজিমউদ্দিন আহমেদ আদালতের আদেশের কথা বললেও তিনি এখন পর্যন্ত কোনো আদেশপত্র দেখাতে পারেননি।
এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলে একটি সিসিটিভি ক্যামেরা, দুটি কাচ ও একটি গাড়ির কাচ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। তবে এ ঘটনায় উভয় পক্ষই একে অপরকে দায়ী করছে। দুই পক্ষের লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।









