বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) দপ্তরের ফটকে তালা দিয়েছেন একদল চাকরিপ্রত্যাশী।
সোমবার (১৩ অক্টোবর) বেলা পৌনে ৪টার দিকে তারা তালা লাগিয়ে ভবনের ভেতরে অবস্থান নেন। পরে বিকাল সাড়ে ৪টায় তালা ভেঙে আন্দোলনকারীদের ভবনের বাইরে বের করে দেয় পুলিশ। এরপর থেকে পুলিশ ভেতরে, আর আন্দোলনকারীরা বাইরে অবস্থান করছেন।
পুলিশের রমনা জোনের সহকারী কমিনার মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘বিকাল ৪টার দিকে আমরা খবর পাই আন্দোলনরত শিক্ষকরা এনটিআরসি ভবনের ভেতরে ঢুকে পড়েছে। খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি শ তিনেক লোক তারা গেট ধাক্কায়ে ভেতরে প্রবেশ করে স্লোগান দিচ্ছেন। পরে আমরা বুঝিয়ে অনেককে বের করে দেই। বাকি যারা অবস্থান করে স্লোগান দিতে থাকে, তাদের সারিবদ্ধভাবে পুশব্যাক করে বের করে দেওয়া হয়েছে। এখানে কোনো লাঠিচার্জ বা ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেনি।’
১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হয়েও ষষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তিতে নিয়োগ সুপারিশ না পাওয়া প্রার্থীরা এদিন শাহবাগ এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে বাংলামোটর এলাকা ঘুরে এনটিআরসিএ ভবনের সামনে অবস্থান নেন।
এসময় তারা ‘আমার সোনার বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই’, ‘দালালি না মেধা; মেধা, মেধা’, ‘থাকার কথা পাঠশালায়, আমরা কেন রাস্তায়’, ‘তুমি কে- আমি কে, সনদধারী, সনদধারী’সহ নানা স্লোগান দেয়।
পরে দুপুর ১টার দিকে তাদের একটি প্রতিনিধি দল এনটিআরসিএর অতিরিক্ত সচিব আমিনুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বলে জানিয়েছেন প্রতিনিধি দলের সদস্য আক্তারুজ্জামান।
তিনি বলেন, ‘তারা আমাদের কোনো দাবি মেনে নেয়নি। আমাদের দুজন স্ট্রোক করেছে। আমরা কয়েকজন তাদের মেডিকেলে নিয়ে এসেছি।’
এরপরই তালা দেওয়ার ওই ঘটনা ঘটে।
এর আগে রোববার দিনভর শাহবাগে ‘মহাসমাবেশ ও বিক্ষোভ’ কর্মসূচি পালন করেন আন্দোলনকারীরা। এরপর রাতে প্রজ্বালিত মোমবাতি হাতে শাহবাগে মিছিল করেন। জাতীয় জাদুঘরের সামনে থেকে মিছিলটি টিএসসি মোড় ঘুরে আবার জাদুঘরে ফিরে আসে। পরে সেখানে কিছু সময় অবস্থান করেন তারা।
নিয়োগ প্রার্থীদের নেতা খোরশেদ আলম সে সময় ঘোষণা দেন, সোমবার সকালে এনটিআরসিএ কার্যালয়ের দিকে ‘লং মার্চ’ করবেন তারা। বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তি জারি না করলে এনটিআরসিএ কার্যালয় বন্ধ করে দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে—
১. এ বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত শূন্যপদ যুক্ত করে দ্রুত সময়ের মধ্যে ‘বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তি’ দিতে হবে।
২. নীতিমালা পরিবর্তনের আগে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ ও সুপারিশবঞ্চিত ১৬,২১৩ জন প্রার্থীর বিষয়ভিত্তিক তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে নিয়োগ দিতে হবে।
গত ১৬ জুন জারি করা ষষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিভিন্ন এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শূন্য থাকা ১ লাখ ৮২২টি শিক্ষক পদে নিয়োগের আবেদন চায় এনটিআরসিএ। ২২ জুন থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত চলে আবেদন প্রক্রিয়া।
গত ১৯ অগাস্ট ৪১ হাজার ৬২৭ জন প্রার্থীকে নিয়োগ সুপারিশ করে গণবিজ্ঞপ্তির ফল প্রকাশ করা হয়। গত ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সুপারিশ পাওয়া প্রার্থীদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষক পদে যোগ দেওয়ার সুযোগ ছিল।
৩০ সেপ্টেম্বর এনটিআরসিএ আয়োজিত এক কর্মশালায় সংস্থাটির চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘খালি চোখে মনে হয় বিপুল পদ খালি, এদিকে প্রার্থীরাও সুপারিশ পাননি, কিন্তু বিষয়টি এমন না। কারণ শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় প্রার্থীরা কোনো একটি নির্দিষ্ট পদের বিপরীতে উত্তীর্ণ হন।’










