শনিবার | ১৮ এপ্রিল, ২০২৬ | ৫ বৈশাখ, ১৪৩৩ | ২৯ শাওয়াল, ১৪৪৭

দুর্নীতির অভিযোগ এলেই ব্যবস্থা: প্রতিমন্ত্রী টুকু

হাসিবুল হাসান শান্ত

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, দুর্নীতির বিষয়ে বর্তমান সরকার জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। কোনো দুর্নীতির তথ্য সামনে এলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সোমবার (৯ মার্চ) বিকেলে সাভারের বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই)-এর প্রধান কার্যালয়ে বাণিজ্যিকভাবে মহিষ পালনে উদ্যোক্তা উদ্বুদ্ধকরণ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকার ব্যাপক দুর্নীতি করায় দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। তাই বর্তমান সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং কোনো অভিযোগ এলেই তা তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, দেশে দুধ উৎপাদন বাড়াতে ভারত থেকে মুররা জাতের মহিষ আনা হয়েছে। এসব মহিষের বাছুর সারা দেশে ছড়িয়ে দিয়ে দুধ উৎপাদন বৃদ্ধি করা হবে।

সুলতান সালাউদ্দিন টুকু আরও বলেন, প্রান্তিক পর্যায়ের খামারিদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে তোলা হচ্ছে, যাতে তারা উৎপাদন বাড়িয়ে দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখতে পারেন। নিরাপদ ও মানসম্মত পশুখাদ্য উৎপাদন, খামারিদের প্রশিক্ষণ, প্রাণীর চিকিৎসা ও ওষুধের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা এবং প্রাণিজ প্রোটিনের ঘাটতি পূরণে সরকার কাজ করছে।

তিনি বলেন, আগে অনেকেই মহিষের মাংস খেতে অনাগ্রহী ছিলেন, তবে বর্তমানে মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। গরুর মাংসের তুলনায় মহিষের মাংসে ক্ষতির পরিমাণ কম এবং মহিষ গরুর তুলনায় বেশি দুধ দিতে সক্ষম। তাই দেশের মহিষের সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. সাইফুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএলআরআই-এর মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুক।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ইনস্টিটিউটের অতিরিক্ত পরিচালক ড. এ বি এম মুস্তানুর রহমান। পরে বিএলআরআই-এর গবেষণা কার্যক্রম নিয়ে উপস্থাপনা করেন প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. সরদার মোহাম্মদ আমানুল্লাহ।

মহিষ গবেষণা ও উন্নয়ন প্রকল্পের লক্ষ্য, অর্জন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন প্রকল্প পরিচালক ড. গৌতম কুমার দেব।

দুই দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত ১০০ জন খামারি ও উদ্যোক্তাকে মহিষ পালনের আধুনিক প্রযুক্তি, খাদ্য ও পুষ্টি ব্যবস্থাপনা, রোগ প্রতিরোধ, প্রজনন ব্যবস্থাপনা ও খামার ব্যবস্থাপনা বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

বিএলআরআই সূত্রে জানা গেছে, মহিষ গবেষণা ও উন্নয়ন প্রকল্পটি বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২০ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত এবং এর প্রাক্কলিত ব্যয় প্রায় ৭২ কোটি টাকা। ইতোমধ্যে প্রকল্পের আওতায় মুররা ও দেশি মহিষ সংগ্রহ, সংকর জাতের মহিষ উৎপাদন, গবেষণা অবকাঠামো নির্মাণ এবং খামারিদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

আপনার মন্তব্য

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

অনুসরন করুন

সর্বশেষ খবর

আর্কাইভ

  • Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
     12345
    6789101112
    13141516171819
    20212223242526
    27282930