বৃহস্পতিবার | ১২ মার্চ, ২০২৬ | ২৭ ফাল্গুন, ১৪৩২ | ২২ রমজান, ১৪৪৭

আদালতে ২ তরুণের স্বীকারোক্তি

ফেসবুকে লেখালেখির জেরে বাগেরহাটে সাংবাদিক হত্যা

জেলা প্রতিনিধি, বাগেরহাট

বাগেরহাটে বিএনপি নেতা ও সাংবাদিক এ এস এম হায়াত উদ্দিন হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দুই তরুণ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সোমবার (০৭ অক্টোবর) বিকেলে কঠোর গোপনীয়তার মধ্য দিয়ে বাগেরহাটের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হারুন অর রশিদের আদালতে তাঁরা জবানবন্দি দেন। বাগেরহাট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) এস এম মাহবুব মোর্শেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহত হায়াত উদ্দিন (৪২) দৈনিক ভোরের চেতনা পত্রিকার নিজস্ব প্রতিবেদক ছিলেন। তাঁর বাড়ি বাগেরহাট পৌর শহরের উত্তর হাড়িখালী এলাকায়। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বাগেরহাট পৌর বিএনপির সম্মেলনে তিনি সাংগঠনিক সম্পাদক পদে নির্বাচন করে পরাজিত হন। এর আগে তিনি পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন।

পুলিশ জানিয়েছে, হায়াত উদ্দিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে লেখালেখি করায় স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে তাঁর বিরোধ তৈরি হয়। ওই বিরোধের জেরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাঁকে হত্যা করা হয়। গ্রেপ্তার দুই তরুণ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।

স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়া দুই আসামি হলেন বাগেরহাট সদর উপজেলার গোটাপাড়া ইউনিয়নের গোপালকাঠি গ্রামের ওমর ফারুক ওরফে ইমন হাওলাদার (২৫) এবং একই গ্রামের আশিকুল ইসলাম (২৫)। গত রোববার রাতে ঢাকার আশুলিয়া এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে বাগেরহাট জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। তবে তাঁরা কেউই হত্যা মামলার এজাহারনামীয় আসামি নন।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় শহরের হাড়িখালী এলাকায় একটি চায়ের দোকানে বসে ছিলেন হায়াত উদ্দিন। তখন মোটরসাইকেলে আসা কিছু ব্যক্তি ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে তাঁকে ফেলে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় নিহত হায়াতের মা হাসিনা বেগম বাদী হয়ে স্থানীয় বিএনপি কর্মী মো. ইসরাইল মোল্লাকে প্রধান আসামি করে সাতজনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা ১০ থেকে ১২ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ডিবির উপপরিদর্শক স্নেহাশিষ দাশ বলেন, গ্রেপ্তার দুই আসামি বিস্তারিতভাবে জানিয়েছেন, কীভাবে ও কেন তাঁরা হত্যাকাণ্ডে অংশ নেন। হায়াত উদ্দিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাদক, লুটপাট ও চাঁদাবাজি নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করায় স্থানীয় কিছু লোকের সঙ্গে তাঁর বিরোধ তৈরি হয়। সেই বিরোধের জেরে গ্রেপ্তার দুজন পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ডে অংশ নেন বলে জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দি মাথায় রেখে তদন্ত এগিয়ে চলছে। এজাহারনামীয় আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে। গ্রেপ্তার দুজন বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত তথ্য বলতে চাননি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।

আপনার মন্তব্য

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

অনুসরন করুন

সর্বশেষ খবর

আর্কাইভ

  • Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
     1
    2345678
    9101112131415
    16171819202122
    23242526272829
    3031