| | |

মুরাসে হার পুরোনো আবাহনীর

ক্রীড়া ডেস্ক

এফসি মুরাস ইউনাইটেডের বয়স মাত্র দুই বছর। ২০২৩ সালে জন্ম হয়েছে দলটির। সে তুলনায় আবাহনী লিমিটেড অনেক পুরোনো এবং অভিজ্ঞ দল। এএফসি টুর্নামেন্টে অনেকবার খেলেছেন আকাশি-নীল জার্সিধারীরা। ভালো ফল করার রেকর্ডও আছে। ২০১৯ সালে ইন্টার জোন প্লে-অফ সেমিফাইনাল খেলেছে দলটি। মুরাস ইউনাইটেড প্রথমবার এএফসি প্রতিযোগিতায় খেলতে এসেই পুরোনো আর অভিজ্ঞ আবাহনীকে হারিয়ে দিল। ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে গতকাল কয়েক হাজার দর্শকের সামনে স্বাগতিকদের ২-০ গোলে পরাজিত করেছে মুরাস ইউনাইটেড। এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের গ্রুপ পর্বে উঠে গেল কিরগিজ দলটি।

আবাহনীর কোচ মারুফুল হক ভালো পরিকল্পনাই নিয়েছিলেন। মুরাসের খেলা নষ্ট করতে হবে। তাদের সাপ্লাই লাইন কেটে দিতে হবে। তার পরও নিজেদের খেলাটা খেলতে হবে। প্রথম দিকে ঠিক এ কাজটাই করছিল আবাহনী। প্রথমার্ধে গোলবার অক্ষত রাখেন মিতুল মারমা। মুরাসের বেশ কয়েকটি আক্রমণ রুখে দেন তিনি। আবাহনীর ডিফেন্স লাইনও ভালোই কাজ করছিল। তবে কোচের পরিকল্পনা পুরোপুরি সফল হলো না। কিরগিজ ক্লাবের বিশালাকৃতির ফুটবলারদের সামনে সব পরিকল্পনাই ভেস্তে গেল।

ম্যাচের শুরুটা ভালোই করেছিল আবাহনী। প্রথমার্ধে দারুণ দুটি সুযোগ তৈরি করে তারা। ১৪ মিনিটে মুরসালিন গোলমুখী শট নিয়েছিলেন। তবে মুরাসের ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে বল চলে যায় গোলবারের ওপর দিয়ে। ২৩ মিনিটে আলামিন গোলরক্ষককে একা পেয়েও বল জালে জড়াতে পারেননি। প্রথমার্ধ নিয়ে সন্তুষ্ট কোচ মারুফুল হকও। তবে দ্বিতীয়ার্ধেই সব এলোমেলো হয়ে যায়। মাঝমাঠে বল দখলে রাখার মতো ফুটবলার না থাকায় ভুগেছে আবাহনী। কোচ মারুফুল বলছেন, ‘আমাদের উইং দুর্বল। মাঝমাঠেও ভালো মানের ফুটবলার নাই। তার পরও প্রথমার্ধে আমাদের পরিকল্পনা সফল হয়েছে। দ্বিতীয়ার্ধেই আমরা আর নিজেদের খেলাটা খেলতে পারিনি।’ বসুন্ধরা কিংস থেকে আবাহনীতে যোগ দেওয়া মুরসালিনও কোচের কথারই প্রতিধ্বনি করলেন। তিনি বলেছেন, ‘আমরা কোচের পরিকল্পনা মেনেই খেলছিলাম। তবে কিছু ভুল আমাদের পরাজয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াল।’

ম্যাচের ৪৮ মিনিটে প্রথম গোল করে এফসি মুরাস ইউনাইটেড। ডি বক্সের বাঁ দিক থেকে আন্দ্রে বাতসুলার ক্রসে ছোট ডি বক্সে লাফিয়ে উঠে হেডে গোল করেন আতাই জুমাসেভ। ৭২ মিনিটে সমতায় ফেরার সুযোগ পেয়েছিল আবাহনী। দিয়াবাতের ব্যাক পাসে বল পেয়ে ডি বক্সের লাইন থেকে গোলমুখী শট নেন মুরসালিন। মুরাসের ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে বল চলে যায় গোলবারের পাশ দিয়ে। ম্যাচের শেষ দিকে আরও একবার গোল করে মুরাস। আবাহনীর ডিফেন্ডার কামরুলের কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে অনেকটা পথ ছুটে গিয়ে মিতুলকে পরাস্ত করে গোল করেন আতাই জুমাসেভ। বিরূপ আবহাওয়ার মধ্যে খেলেও ২-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে দলটি। এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগে খেলতে এসে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই দারুণ এক অভিজ্ঞতা নিয়ে দেশে ফিরে গেল মুরাস ইউনাইটেড। দলটির কোচ সের্গি পুশকভ গতকাল ম্যাচের পর বললেন, ‘আমাদের জন্য আবহাওয়াটা ছিল বেশ চ্যালেঞ্জিং। এখানে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি হওয়ায় গরমটা বেশ অনুভূত হয়। তার পরও আমার ফুটবলাররা ভালো খেলা উপহার দিয়েছে। এএফসি প্রতিযোগিতায় প্রথম ম্যাচে জয় পেয়ে আমরা নিঃসন্দেহে অনেক আনন্দিত।’

এএফসি প্রতিযোগিতায় এবার বাংলাদেশ থেকে দুটি দল খেলছে। আবাহনী খেলছে লিগের রানার্সআপ দল হিসেবে। চ্যাম্পিয়ন হিসেবে মোহামেডানেরও খেলার কথা ছিল। তবে তারা এএফসি লাইসেন্স না পাওয়ায় এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগে জায়গা করে নেয় আবাহনী। বসুন্ধরা কিংস খেলে কাপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে। গত রাতেই কিংস মুখোমুখি হয়েছে সিরিয়ান ক্লাব আল-কারামাহোর। দেশের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে এএফসি প্রতিযোগিতায় তারা টিকে আছে কি না এতক্ষণে নিশ্চয়ই জানা হয়ে গেছে পাঠকের।

আপনার মন্তব্য

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted