| | |

বিশ্বকাপে যারা নিজেদের নতুন করে চিনিয়েছেন

ক্রীড়া ডেস্ক

২০২৬ বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিলেন ৪৮ দলের মোট ১ হাজার ২৪৮ জন ফুটবলার। তাদের মধ্যে লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে বা লামিনে ইয়ামালের মতো প্রতিষ্ঠিত তারকাদের আলো ছিলই। তবে এই আসরই আবার বিশ্ব ফুটবলকে উপহার দিয়েছে কয়েকজন নতুন মুখ, যারা নিজেদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে কেড়ে নিয়েছেন সবার নজর।

ভোজিনিয়া (কেপ ভার্দে) : ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ভোজিনিয়া নিঃসন্দেহে এই বিশ্বকাপের অন্যতম বড় চমক। মাত্র সাড়ে পাঁচ লাখ জনসংখ্যার দেশ কেপ ভার্দে প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলেই শেষ ৩২ পর্যন্ত পৌঁছায়, আর সেই সাফল্যের মূল ভিত্তি ছিলেন তিনি।

গ্রুপ পর্বে স্পেন ও উরুগুয়ের মতো শক্তিশালী দলকে রুখে দেন ভোজিনিয়া। শেষ ৩২-এ আর্জেন্টিনাকেও দীর্ঘ সময় আটকে রেখে ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যান। তাঁর অসাধারণ সেভ ও নেতৃত্ব কেপ ভার্দেকে বিশ্বমঞ্চে নতুন পরিচয় এনে দেয়। বিশ্বকাপ শুরুর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর অনুসারী ছিল মাত্র ১৫ হাজারের মতো, টুর্নামেন্ট শেষে সেটি কয়েক কোটিতে পৌঁছে যায়।

ইসমায়েল সাইবারি (মরক্কো) : চোট কাটিয়ে বিশ্বকাপে এসে মরক্কোর অন্যতম সেরা খেলোয়াড়ে পরিণত হন ইসমায়েল সাইবারি। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে মাত্র ৭১ সেকেন্ডে গোল করে দেশের ইতিহাসে দ্রুততম বিশ্বকাপ গোলের রেকর্ড গড়েন।

গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচেই গোল করেন তিনি। শেষ ষোলোতে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে টাইব্রেকারে জয়সূচক পেনাল্টিও নেন সফলভাবে। তবে কোয়ার্টার ফাইনালে চোটের কারণে খেলতে না পারায় মরক্কোর যাত্রা থেমে যায়। বিশ্বকাপে তাঁর পারফরম্যান্সের পরই জার্মান ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখ তাঁকে দলে ভিড়িয়েছে।

ইয়োহান মানজাম্বি (সুইজারল্যান্ড) : জেনেভায় জন্ম নেওয়া ২০ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডারের জাতীয় দলে অভিষেক হয় মাত্র এক বছর আগে। কিন্তু বিশ্বকাপে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে সময় নেননি।

বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে বদলি নেমে মাত্র ১৯ মিনিটে করেন দুটি গোল। এতে তিনি সুইজারল্যান্ডের ইতিহাসে বিশ্বকাপে সবচেয়ে কম বয়সে জোড়া গোল করা ফুটবলার হন। কানাডার বিপক্ষে তাঁর জয়সূচক গোলেই গ্রুপসেরা হয় সুইজারল্যান্ড। পরে চোটে পড়ায় নকআউট পর্বে আর মাঠে নামতে পারেননি।

হুলিয়ান কিনোনিয়েস (মেক্সিকো) : কলম্বিয়ায় জন্ম নেওয়া এই ফরোয়ার্ড বর্তমানে খেলেন সৌদি আরবের ক্লাব ফুটবলে। বিশ্বকাপের আগে মেক্সিকো দলে তাঁর জায়গা নিয়েই ছিল প্রশ্ন। কিন্তু মাঠের পারফরম্যান্সেই সব জবাব দেন তিনি।

চেক প্রজাতন্ত্র, ইকুয়েডর ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গোল করে টুর্নামেন্ট শেষ করেন চার গোল নিয়ে। উদ্বোধনী ম্যাচেও করেছিলেন গোল। এক বিশ্বকাপে মেক্সিকোর হয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় জায়গা করে নেন তিনি। বড় ম্যাচে গোল করার সামর্থ্য তাঁকে মেক্সিকোর অন্যতম ভরসায় পরিণত করেছে।

ফোলারিন বালোগান (যুক্তরাষ্ট্র) : নিউইয়র্কে জন্ম, বেড়ে ওঠা ইংল্যান্ডে, আর খেলছেন যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে বালোগানের ফুটবল জীবনই যেন বহুজাতিক গল্প। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই করেন জোড়া গোল। ১৯৩০ সালের পর বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ফুটবলারের প্রথম জোড়া গোল ছিল এটি। তবে মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি লাল কার্ড ও পরে সেই নিষেধাজ্ঞা স্থগিত হওয়ার ঘটনাও তাঁকে আলোচনায় নিয়ে আসে। যদিও শেষ পর্যন্ত দলকে বড় সাফল্য এনে দিতে পারেননি।

আইয়ুব বুয়াদ্দি (মরক্কো) : মাত্র ১৮ বছর বয়সেই বিশ্বকাপের বড় মঞ্চে অসাধারণ পরিণত ফুটবল খেলেছেন আইয়ুব বুয়াদ্দি। ব্রাজিলের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ থেকেই নজর কেড়েছিলেন তিনি।

মধ্যমাঠে বল নিয়ন্ত্রণ, পাস এবং খেলার গতি নিয়ন্ত্রণে ছিলেন অনন্য। ফ্রান্সের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে বিদায় নিলেও পুরো টুর্নামেন্টে মরক্কোর অন্যতম সেরা খেলোয়াড় ছিলেন তিনি। বিশ্বকাপের আগেই ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলে নিজের প্রতিভার প্রমাণ দিয়েছিলেন এই তরুণ।

মোস্তফা জিকো (মিসর) : বিশ্বকাপের কয়েক সপ্তাহ আগেও ছুটি কাটাচ্ছিলেন মোস্তফা জিকো। পরে হঠাৎ জাতীয় দলে ডাক পান এবং সুযোগটি দারুণভাবে কাজে লাগান। ২৯ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার টুর্নামেন্টে দুটি গোল ও একটি গোলে সহায়তা করেন। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে গোল করলেও পরে ভিএআরের সিদ্ধান্তে আরেকটি গোল বাতিল হয়, যা নিয়ে তৈরি হয় বড় বিতর্ক। কঠিন জীবনসংগ্রাম পেরিয়ে উঠে আসা জিকো এখন মিসরের নতুন নায়ক।

আপনার মন্তব্য

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted