শনিবার | ১৩ জুন, ২০২৬ | ৩০ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ | ২৬ জিলহজ, ১৪৪৭

বৈঠক শেষে ফুরফুরে বিএনপি

ডেস্ক রিপোর্ট

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকের পর সন্তোষ প্রকাশ করে ফুরফুরে মেজাজে বিএনপি। জামায়াত ও এনসিপির সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেওয়া জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান বিএনপির সঙ্গে বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন।

বিষয়টি দৃষ্টি কেড়েছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।

বিশ্লেষকরা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান অধ্যাপক ইউনূস যেকোনো মূল্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে চাচ্ছেন। খলিলুর রহমান জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির সঙ্গে বৈঠকে সরকারের প্রতিনিধি দলে ছিলেন।

বিএনপিতে ড. খলিলকে নিয়ে চাপা অসন্তোষ রয়েছে। সরকারে থাকা যাদের ব্যাপারে বিএনপিসহ গণতন্ত্রমনা দলের বিন্দুমাত্র সংশয় রয়েছে তাদের ব্যাপারে বিএনপিকে আশ্বস্ত করতে খলিলকে বৈঠকে রাখা হয়নি বলে মনে হচ্ছে।

রোববার (৩১ আগস্ট) সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত প্রধান উপদেষ্টা তার সরকারি বাসভন যমুনায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির সঙ্গে বৈঠক করেন। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে আট সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বৈঠকে অংশ নেয়।

বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টা প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, নির্বাচন ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। কেউ যদি নির্বাচনের কোনো বিকল্প নিয়ে ভাবে, সেটা হবে এই জাতির জন্য গভীর বিপজ্জনক।

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে জামায়াত ও এনসিপির এই বৈঠকে সরকারের পক্ষে অংশ নেন উপদেষ্টা আদিলুর রহমান, আসিফ নজরুল ও নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। অন্যদিকে বিএনপির সাথে বৈঠকে খলিলুর রহমানের পরিবর্তে অংশ নেন ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ।

সূত্র বলছে, তিন দলের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা নিজে থেকে আগামী নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্রের কথা তুলে ধরেন। বিএনপিও একমত হয়ে যেকোনো মূল্যে সরকারকে ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

সূত্রের দাবি, প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতারা হতাশ হয়েছেন। প্রধান উপদেষ্টা দল দুটির কাছেও নির্বাচন নিয়ে পতিত ফ্যাসিবাদী শক্তির ষড়যন্ত্র তুলে ধরেন। প্রধান উপদেষ্টার নির্বাচন যেকোনো মূল্যে ফেব্রুয়ারিতে করার আগ্রহ জামায়াত ও এনসিপিকে আশাহত করেছে।

বৈঠকে শেষে জামায়াতের নায়েবে আমির আব্দুল্লাহ মো. তাহের হতাশার সুরে বলেন, প্রধান উপদেষ্টা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের বিষয়ে কথা বলেছেন। প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে আমরাও একমত। তবে দেশ একটি নীলনকশার নির্বাচনের দিকে যাচ্ছে কি না, সে বিষয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। সরকার লন্ডনে একটি দলের সঙ্গে বৈঠক করে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছিল, যা একটি নজিরবিহীন ঘটনা। এতে সরকারের নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ণ হয়েছে এবং একটি দলকে সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

বৈঠক শেষে এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, জুলাই সনদের আইনি এবং সাংবিধানিক ভিত্তির জন্য আগামী যে নির্বাচন হবে, সে নির্বাচন যেন গণপরিষদ নির্বাচন হয়।

বৈঠক সূত্রের দাবি, অধ্যাপক ইউনূসের কাছে দলটি এমন আবদার করলেও, তিনি আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কথা তুলে ধরেন এবং নির্বাচন বানচালে পতিত আওয়ামী লীগের ষড়যন্ত্র আলোকপাত করেন। এ সময় বৈঠকে থাকা উপদেষ্টারাও চুপ ছিলেন। অধ্যাপক ইউনূস নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সবার সহযোগিতাও প্রত্যাশা করেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রাশেদ আলম ভূঁইয়া বলেন, ছাত্রদের বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ আসা শুরু হয়েছে। সারাদেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিও নাজুক। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও অসন্তোষ। আওয়ামী লীগের নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রও এখন দৃশ্যমান। এই মুহূর্তে অধ্যাপক ইউনূস কারো সহযোগিতা পাচ্ছেন না। এজন্য হয়তো তিনি নিজের নিরাপদ প্রস্থান নিশ্চিত করার জন্য বিএনপির সঙ্গে অ্যালাই করে অতি দ্রুত সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে চাচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, আজকের বৈঠকে মনে হচ্ছে অধ্যাপক ইউনূস এখন এনসিপিকে তেমন গুরুত্ব দিচ্ছেন না। আর জামায়াতের সঙ্গেও দূরত্ব বাড়বে।

আপনার মন্তব্য

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

অনুসরন করুন

সর্বশেষ খবর

আর্কাইভ

  • Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
    1234567
    891011121314
    15161718192021
    22232425262728
    2930