ঢাকার সাভারে তীব্র যানজটে আটকে হাসপাতালে পৌঁছাতে না পেরে সড়কেই জন্ম নেওয়া নবজাতকটি তিনদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মারা গেছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সাভারের সুপার মেডিকেল হাসপাতাল (প্রা.) লিমিটেডের এনআইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এর আগে রোববার (২ আগস্ট) সন্ধ্যায় সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকার ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সার্ভিস লেনে প্রসববেদনায় আক্রান্ত রাজিয়া খাতুন (৩২) হাসপাতালে যাওয়ার পথে যানজটে আটকা পড়ে সড়কেই সন্তানের জন্ম দেন। পরে হাসপাতালের কর্মীরা ঘটনাস্থল থেকে মা ও নবজাতককে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
সুপার মেডিকেল হাসপাতালের এনআইসিইউর মেডিকেল অফিসার ডা. খন্দকার আকাশ জানান, শিশুটি ২৮ সপ্তাহ বয়সে অপরিণত অবস্থায় জন্ম নেয়। তার ওজন ছিল প্রায় এক কেজি এবং ফুসফুসও পূর্ণাঙ্গভাবে বিকশিত হয়নি। হাসপাতালে আনার পর লাইফ সাপোর্টসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের চিকিৎসা দেওয়া হলেও বারবার শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
তিনি আরও বলেন, হাসপাতালের বাইরে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধান ছাড়া প্রসব হলে মা ও নবজাতকের জন্য নানা জটিলতা তৈরি হতে পারে। এ ক্ষেত্রে সড়কে প্রসব হওয়ায় নবজাতক জন্মের পর প্রয়োজনীয় তাৎক্ষণিক চিকিৎসা সহায়তা পায়নি।
নবজাতকের বাবা আমির হামজা জানান, প্রসববেদনা শুরু হলে স্ত্রীকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে ভয়াবহ যানজটে আটকে পড়েন তারা। হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই সড়কের ওপর সন্তান জন্ম নেয়। পরে হাসপাতালের কর্মীরা এসে মা ও শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
বর্তমানে মা রাজিয়া খাতুন শঙ্কামুক্ত রয়েছেন। নবজাতকের মরদেহ নিয়ে পরিবারের সদস্যরা গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।








