সাভারে অনুমোদনহীন এবং নকশা বহির্ভূতভাবে বহুতল ভবন নির্মাণের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযান পরিচালনা করেও নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। আওয়ামী লীগের প্রভাব দেখিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বহুতল ভবনের ছাড়পত্র ও নকশার অনুমোদন নিয়ে এসব ভবনের নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
সম্প্রতি সাভার সদর ইউনিয়নের কৃষ্টপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে নূরুল ইসলামের ছয়তলা ফাউন্ডেশনের চারতলা নির্মাণাধীন ভবনে চারপাশের দেওয়াল ভেঙে দেন রাজউকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাহমিনা পারভিন। ডিটেল এরিয়া প্ল্যানের (ড্যাব) আওতাভুক্ত এলাকায় অনুমতিবিহীন বহুতল ভবনের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে রাজউক। ভবনটিতে রাজউকের কোনও অনুমোদন ছিল না শুধু ইউনিয়ন পরিষদের অনাপত্তি সনদ নিয়েই ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করছিল।
এছাড়া সাভারের গেন্ডা কবরস্থান রোড এলাকার বাসিন্দা ফরিদা পারভীন, মুস্তাফিজুর রহমান, জাহাঙ্গীর আলম এবং সাদ্দাম হোসেনের মালিকানাধীন ভবনগুলোতে নকশা বহির্ভূতভাবে নির্মান কাজ করায় অভিযান চালিয়ে বর্ধিত অংশ ভেঙে দেন রাজউকের ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বেলায়েত হোসেন।
সাভার সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ চাপাইন এলাকার বহুতল ভবন (৮ তলা) নির্মাণ করছেন এলাকার শাহীন হাওলাদার। ইমারত নির্মাণ বিধিমালা লঙ্ঘন করে ভবনটির নির্মান কাজ চলছে। এরকম আরও একাধিক ভবনের নির্মান কাজ চললেও রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) রহস্যজনক কারনে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
দক্ষিন চাপাইন এলাকার বাসিন্দা নাজমা বেগম অভিযোগ করে বলেন, শাহীন হাওলাদার নকশা বহির্ভ‚তভাবে ৮তলা ভবন নির্মাণ করছে। চারিপাশে কোন জায়গা না ছেড়ে সীমানায় ঘেঁষে ভবনটি তৈরি করছে।
সাভার সদর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড সদস্য মো: আব্দুল করিম নিজের প্রভাব খাটিয়ে অবৈধভাবে বহুতল ভবনটির নির্মান কাজ দেখভাল করছেন বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। তবে ইউপি সদস্য আব্দুল করিম অভিযোগ অস্বীকার করলেও তার ওয়ার্ডে এরকম অশংখ্য ভবন নির্মান হওয়ার কথা স্বীকার করেন।
বহুতল ভবনটি মালিক শাহীন হাওলাদার বলেন, সাভার সদর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ৮তলা ভবনের অনাপত্তি সনদ নিয়ে নির্মান কাজ করছি। অবৈধভাবে ভবন তৈরী করছি না। তবে প্লানের সাথে কাজের কিছুটা হেরফের থাকার কথা স্বীকার করেন তিনি।
সাভার ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ৮তলা ভবন তৈরীর অনুমোদন দিতে পারে কিনা জানতে চাইলে সাভার সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) আরিফ হোসেন বলেন, ২০২২সালে অনুমোদন নিয়েছে। তখন আওয়ামীলীগের মনোনিত চেয়ারম্যান ছিল সোহেল রানা। সে কিভাবে অনুমোদ দিছে তা বলতে পারবো না। তবে তিনি স্বীকার করেন এরকম অবৈধ ভবন তার ইউনিয়নসহ আশপাশে বহু রয়েছে।আরিফ হোসেন বলেন, ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুযায়ী ভবন না করার অভিযোগ পেয়ে শাহীন হাওলাদারের ভবনের নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
রাজউক সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ড্যাবের আওতাভুক্ত এলাকায় যেকোনও বহুতল ভবন নির্মাণে রাজউকের অনুমোদন আবশ্যক। ইউনিয়ন পরিষদ বা উপজেলা কর্তৃপক্ষের অনুমোদন এ ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য নয়।










