ঢাকার সাভারে ভেজাল সয়াবিন তেল ও নকল ডিটারজেন্ট পাউডার তৈরির একটি কারখানায় ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে কারখানাটি সিলগালা করেছে। এ সময় বিপুল পরিমাণ ভেজাল পণ্য জব্দ করা হয় এবং কারখানার ম্যানেজারের দায়িত্বে থাকা এক নারীকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
শনিবার দুপুরে সাভার সদর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের দেওগা মহল্লায় ইউপি সদস্য মজিবুর রহমানের বাড়িতে অবস্থিত ‘গ্যালাক্সি এগ্রো লিমিটেড’ নামের কারখানাটিতে অভিযান পরিচালনা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে নেতৃত্ব দেন সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইফুল ইসলাম।
অভিযানকালে কারখানাটি থেকে ম্যানেজার আসমা আক্তার, শ্রমিক হ্যাপি আক্তার ও নিলুফা আক্তারকে আটক করা হয়। পরে ম্যানেজার আসমা আক্তারকে এক বছরের কারাদণ্ড ও দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কারখানাটিতে খোলা সয়াবিন তেল, পাম ওয়েল ও ফার্নিস ওয়েল ড্রামে করে এনে বিভিন্ন কেমিক্যাল মিশিয়ে রিফাইন করা হচ্ছিল। পরে ‘ভিটামিন এ সমৃদ্ধ সয়া ফটিফাইট সয়াবিন তেল’ নামে এক, দুই, তিন ও পাঁচ লিটারের বোতলে ভরে বাজারজাত করা হচ্ছিল। অথচ কারখানাটিতে কোনো ল্যাব, কেমিস্ট বা বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ছিল না। তবুও বোতলের মোড়কে অবৈধভাবে বিএসটিআইয়ের লোগো ব্যবহার করা হচ্ছিল।
এছাড়া কারখানাটিতে একটি নামি ব্র্যান্ডের আদলে ‘সানশাইন ডিটারজেন্ট পাউডার’ নামে নকল ডিটারজেন্টও তৈরি করা হচ্ছিল বলে জানা গেছে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম জানান, বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ছাড়া ভেজাল তেল বোতলজাত করে বিক্রির দায়ে ম্যানেজার আসমা আক্তারকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কারখানার ভেজাল মালামাল জব্দ করে কারখানাটি সিলগালা করা হয়েছে। পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এটি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আরিফ হোসেনের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আরিফ হোসেন বলেন, এর আগেও তিনি স্থানীয় ইউপি সদস্য মজিবুর রহমানকে কারখানাটির বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন, তবে বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।
অভিযান চলাকালে সাভার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল আমিন, উপজেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
কারখানার মালিক নিজামুদ্দিন পলাতক থাকায় আটক ম্যানেজার আসমা আক্তার দাবি করেন, তারা কারখানাটি বড় করার চেষ্টা করছিলেন এবং ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র করার পরিকল্পনা ছিল। তবে তিনি ভেজাল পণ্য উৎপাদনের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তারা শুধু ড্রাম থেকে তেল বোতলে ভরে বাজারজাত করতেন।










