ঢাকার সাভার উপজেলা এলাকায় সাত বছরের এক শিশুকে নির্যাতন করে তার দুই চোখে ‘সুপার গ্লু’ লাগিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে শিশুটির বোন জামাই রাজ্জাকের নাম উঠে এসেছে, যিনি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
শনিবার (সকাল সাড়ে ৯টার দিকে) বংশী নদী তীরবর্তী একটি পার্কের পাশ থেকে পথচারীরা গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে। পরে তাকে প্রথমে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।
সাভার মডেল থানার এসআই মুস্তাকিম বিল্লাহ জানান, ঘটনাস্থলটি ধামরাই থানা এলাকার মধ্যে পড়ায় সংশ্লিষ্ট থানাকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাস্তার পাশে ছটফট করতে থাকা শিশুটি চিৎকার করে বলছিল, “আমাকে বাঁচান, আমি কিছু দেখতে পারছি না।” কাছে গিয়ে দেখা যায়, তার শরীরে মারধরের চিহ্ন এবং দুই চোখের পাতা আঠা দিয়ে আটকানো। চোখ থেকে রক্ত ও পানি ঝরছিল।
স্থানীয় বাসিন্দা শিরিনা আক্তার জানান, “শিশুটির আর্তনাদ শুনে আমি তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাই।”
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশুটির অবস্থা আশঙ্কাজনক। তার চোখের ভেতরে রাসায়নিক আঠা থাকায় দৃষ্টিশক্তি স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুটি জানায়, তার বোন জামাই রাজ্জাক তাকে মারধর করে এবং একপর্যায়ে চোখে আঠা লাগিয়ে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। ঘটনার কারণ এখনও স্পষ্ট নয়।
শিশুটির সৎ বাবা নাজিমুদ্দিন বলেন, “আমি প্রায় ছয় মাস আগে শিশুটির মাকে বিয়ে করেছি। তাকে নিজের সন্তানের মতোই দেখি। সকালে জানতে পারি, বেড়ানোর কথা বলে নিয়ে গিয়ে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে।”
শিশুটির মা সাহিদা বেগম, যিনি একটি গার্মেন্টসে কাজ করেন, বলেন, “আমি বাসায় থাকি না। হঠাৎ শুনি আমার মেয়ের জামাই আমার ছেলেকে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করেছে। এখন তার অবস্থা খুব খারাপ।”
সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. তৌহিদ আল হাসান বলেন, “শিশুটির দুই চোখে সুপার গ্লু প্রয়োগ করা হয়েছে এবং চোখে আঘাত করা হয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।”
পুলিশ জানায়, পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত রাজ্জাক পলাতক রয়েছেন এবং তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।










