ঢাকার সাভারে মাদক কারবারিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক পরিদর্শককে ক্লোজ করা হয়েছে। আলোচিত ওই কর্মকর্তার নাম মাসুদুর রহমান। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সদস্যের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সময়ে গৃহীত শাস্তিমূলক ব্যবস্থার ধারাবাহিকতায় তার বিরুদ্ধেও এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) রাজিব মিনা স্বাক্ষরিত এক আদেশে গত ১ জুন তাকে ক্লোজ করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর আগে একই ধরনের অভিযোগে সাভার মডেল থানার ওসিসহ চার পুলিশ কর্মকর্তাকে ক্লোজ করা হয়। এতে মাদক সিন্ডিকেটকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই পরিদর্শক মাসুদুর রহমান ও তার টিমের বিরুদ্ধে মাদক কারবারিদের কাছ থেকে সুবিধা নেওয়া, অভিযানে অনিয়ম এবং বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সম্প্রতি মাদক সম্রাট হিসেবে পরিচিত শামীমকে ঘিরে একটি ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এসআই জেরিন সুলতানা ও কনস্টেবল আবদুল্লাহ আল মাসুমকে আটকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। পরে তারা ক্ষমা চেয়ে মুক্তি পান বলে জানা যায়।
এদিকে আশুলিয়ার বুড়ির বাজার এলাকায় একটি গাঁজার আড্ডায় অভিযান ও মাসোহারা সংগ্রহকে কেন্দ্র করে মাদক কারবারিদের হামলায় অধিদপ্তরের কয়েকজন সদস্য আহত হন। হামলার ঘটনায় স্থানীয়ভাবে পরিচিত গাঁজা ব্যবসায়ী পারভীন ও তার মেয়ে মুক্তির অনুসারীদের দায়ী করা হয়।
এর আগে সাভার পৌর এলাকার পালোয়ানপাড়ায় মাদক সম্রাট শামীমের নিয়ন্ত্রিত বলে পরিচিত একটি স্পটে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে দুই টেলিভিশন সাংবাদিক হামলার শিকার হন। ওই ঘটনায় তাদের মারধর ও কুপিয়ে আহত করা হয়, যা দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়।
মাদক সংশ্লিষ্ট একের পর এক ঘটনায় প্রশাসনের বিভিন্ন সংস্থার সদস্যদের নাম সামনে আসায় সাভারে মাদকবিরোধী কার্যক্রমের কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, শুধু মাঠপর্যায়ের মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে নয়, তাদের পৃষ্ঠপোষক ও সহযোগীদের বিরুদ্ধেও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।










