জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক ছাত্রীকে গোপনে ছবি তোলা এবং শারীরিকভাবে হেনস্তার অভিযোগে এক শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১৩ জুন) বিকেল ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে বঙ্গবাজারগামী একটি বাসে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর বাসটি ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে আনা হলে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখার কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা, উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান এবং উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক শামছুল আলম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিষয়টি তদন্ত করেন এবং তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
অভিযুক্ত মো. হাসানুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও নবাব সলিমুল্লাহ হলের আবাসিক ছাত্র। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫১তম ব্যাচের ছাত্রী।
লিখিত অভিযোগ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, বাসে ওই ছাত্রীর অজান্তে কয়েকটি ছবি তোলেন হাসানুর রহমান। বিষয়টি অন্য এক শিক্ষার্থীর নজরে এলে ভুক্তভোগী তার মোবাইল ফোনটি নিজের কাছে নেন। এ সময় অভিযুক্ত ছবি তোলার অভিযোগ অস্বীকার করে ফোনটি ফেরত নেওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে এবং ভুক্তভোগী ছাত্রী আহত হন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, পরে অভিযুক্ত জোরপূর্বক মোবাইল ফোন নিয়ে বাস থেকে নেমে পালানোর চেষ্টা করেন। তবে অন্যান্য শিক্ষার্থীরা তাকে আটক করে ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে আনেন এবং প্রক্টরিয়াল টিমের কাছে সোপর্দ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা অফিসে প্রক্টরিয়াল বডির উপস্থিতিতে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী লিখিত জবানবন্দিতে অনুমতি ছাড়া ছবি তোলা এবং ধস্তাধস্তির সময় ভুক্তভোগীকে লাঞ্ছিত করার বিষয়টি স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, “ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই আমরা নিরাপত্তা অফিসে গিয়ে ভুক্তভোগীসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বিধি ও লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত শেষে বিধি অনুযায়ী চূড়ান্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”










