ফুরোমন পাহাড় রাঙামাটির অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন স্পট। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১ হাজার ৫১৮ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই পাহাড়ে দাঁড়ালে দেখা মেলে শুভ্র সাদা মেঘ, সবুজ পাহাড়ের সারি, কাকডাকা ভোরে কুয়াশার বুক চিরে ওঠা লাল সূর্যের আলো ও অতিথি পাখিদের কিচিরমিচির। এই অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে স্থানীয়দের পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকে পর্যটকরা ঘণ্টাব্যাপী পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে ফুরোমন পাহাড়ে উঠেন।
তবে সম্প্রতি সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের এক অপ্রীতিকর ঘটনার সাক্ষী হয়েছেন সেখানে বেড়াতে যাওয়া পর্যটকরা। মুহূর্তেই মুছে যায় ফুরোমন জয় করার আনন্দ। আতঙ্ক আর উৎকণ্ঠার মধ্যে প্রাণ নিয়ে কোনোরকমে ফিরে আসেন তারা।
অভিযোগ রয়েছে, ইংরেজি নববর্ষ উপলক্ষে ১ জানুয়ারি একদল নারী ও পুরুষ পর্যটক রাঙামাটি শহরের মানিকছড়ি এলাকার ফুরোমন পাহাড়ে ভ্রমণে যান। প্রকৃতির সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে সবাই যখন আনন্দে মেতে উঠেছিলেন, ঠিক তখনই একদল অস্ত্রধারী সেখানে এসে পর্যটকদের ঘিরে ফেলে। অস্ত্রের মুখে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের কান ধরে উঠবস করতে বাধ্য করা হয়। এ সময় পর্যটকদের হেনস্তার ভিডিও ধারণ করে সন্ত্রাসীরা।
ভিডিওতে এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি চাইলে তোমাদের পাহাড় থেকে ফেলে হত্যা করতে পারি। কিন্তু তা করবো না। কারণ আমি মানুষ হত্যা করার পক্ষে নই। তোমরা ভুল করেছো এই ফুরোমন পাহাড়ে উঠে। তাই কান ধরে উঠবস করিয়ে ভুল সংশোধন করে দিচ্ছি। ভবিষ্যতে কখনো এখানে এলে পরিণাম ভয়ংকর হবে। এটা কোনো পর্যটন কেন্দ্র নয়।’
পরে ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ঘটনার প্রতিবাদে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠন ও স্থানীয় বাঙালীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন।
পার্বত্য যুব পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নূর হোসেন বলেন, ‘অস্ত্রধারীদের কাছে পর্যটক কেন জিম্মি থাকবে। পাহাড়ে পর্যটক না এলে এই জেলা পিছিয়ে পড়বে। পরিকল্পিতভাবে আতঙ্ক সৃষ্টি করে পর্যটন বন্ধের চেষ্টা করা হচ্ছে। এসব সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।’
হেনস্তার শিকার পর্যটক মো. সুমন বলেন, ‘আমরা কয়েকজন বন্ধু মিলে মেঘ ছোঁয়ার আশায় ফুরোমন পাহাড়ে গিয়েছিলাম। সেখানে নারী-পুরুষ মিলিয়ে প্রায় ৩০ জন পর্যটক ছিল। হঠাৎ কয়েকজন অস্ত্রধারী এসে আমাদের ঘিরে ফেলে। তারা আমাদের সবার মোবাইল ফোন কেড়ে নেয় এবং কান ধরে উঠবস করতে বাধ্য করে। ভবিষ্যতে পাহাড়ে উঠলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এসব সন্ত্রাসীদের বিচার না হলে পাহাড়ে আর কোনো পর্যটক নিরাপদে ঘুরতে পারবে না।’










