কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার গহীন পাহাড়ে মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশে জড়ো করা নারী ও শিশুসহ ৩৯ জনকে উদ্ধার করেছে নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ড। এ সময় পাচারকারী সন্দেহে দুইজনকে আটক করা হয়।
বৃহস্পতিবার (০২ অক্টোবর) দিবাগত শেষ রাতে উপজেলার কচ্ছপিয়ার পাহাড়ে অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করা হয় বলে জানান নৌবাহিনীর কন্টিনজেন্ট কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার এম মোহাইমিনুল হক মাহিম।
উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে রোহিঙ্গা নারী ১৮ জন, রোহিঙ্গা পুরুষ ১১, রোহিঙ্গা শিশু আটজন এবং বাঙালি দুইজন। তবে আটক দুইজনের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি।
লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মাহিম বলেন, “পাহাড়ের সংঘবদ্ধ একটি চক্র মুক্তিপণ আদায় ও নানা প্রলোভন দেখিয়ে মালয়েশিয়া পাচারের উদ্দেশে বেশকিছু নারী ও শিশুদের জিম্মি করে রাখার খবর পাওয়া যায়।
“ভোররাতে নৌবাহিনীর বিশেষায়িত ফোর্স সোয়াডসের কমান্ডো দলসহ কোস্ট গার্ডের সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। এ সময় পাচারকারী চক্রের সদস্যরা টের পেয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ধাওয়া দিয়ে দুইজনকে আটক করা হয়।”
পরে অভিযান চালিয়ে পাহাড়ের একাধিক স্থান থেকে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ৩৯ জনকে উদ্ধার করা হয়; যাদের বেশিরভাগ রোহিঙ্গা নাগরিক বলে জানান লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মাহিম।
উদ্ধার হওয়াদের কাছে পাওয়া তথ্যের বরাতে তিনি বলেন, “সংঘবদ্ধ মানব পাচারকারীরা বিভিন্ন সময় প্রলোভন দেখিয়ে ও অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাদের তুলে এনে গহীন পাহাড়ে আটকে রাখে।
“পরে কারো কারো কাছ থেকে মুক্তিপণ দাবি ও বিদেশে পাঠানোর কথা বলে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেয় চক্রটি। উদ্ধার হওয়াদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।”
এ ছাড়া আটকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানান নৌবাহিনীর এই কর্মকর্তা।
এর আগে ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন সময় গহীন পাহাড়ে যৌথ অভিযান চালিয়ে ১৩৪ জনকে উদ্ধারের কথা জানিয়েছে নৌবাহিনী।










