রাজধানীর সার্ক ফোয়ারা মোড়সংলগ্ন পান্থকুঞ্জ পার্ক এবং হাতিরঝিল জলাধারের উন্মুক্ত স্থানে যেকোনো ধরনের নির্মাণকাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এসব স্থানে বিনোদন বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে জনসাধারণের প্রবেশাধিকারে হস্তক্ষেপ না করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি বিশ্বজিৎ দেবনাথের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে রুলসহ এ আদেশ দেন।
আদেশের ফলে পান্থকুঞ্জ ও হাতিরঝিল এলাকায় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন রিট আবেদনকারীদের পক্ষে আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। তবে রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল খান জিয়াউর রহমান জানিয়েছেন, এ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করা হবে।
রিটের পটভূমি
‘বাংলাদেশ গাছ রক্ষা আন্দোলন’-এর সমন্বয়ক আমিরুল রাজিবসহ নয় বিশিষ্ট নাগরিক মঙ্গলবার (৯ সেপ্টম্বর) এ রিটটি করেন। অন্য আবেদনকারীরা হলেন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, অধ্যাপক গীতি আরা নাসরীন, অধ্যাপক সামিনা লুৎফা, গবেষক পাভেল পার্থ, অধ্যাপক আদিল মোহাম্মাদ খান, আইনজীবী সৈয়দ মাহবুবুল আলম, গবেষক ফিরোজ আহমেদ এবং সমন্বয়ক নাঈম উল হাসান।
আদালতে আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া ও রিপন কুমার বড়ুয়া।
জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, পান্থকুঞ্জে গাছ কাটার ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর থেকে গাছ রক্ষা আন্দোলন অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। ১৬৮ দিন ধরে আন্দোলন চললেও নির্মাণকাজ বন্ধ ছিল। পরে দেখা যায়, নতুন যন্ত্রপাতি আনা হচ্ছে ও কাজ শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে বিশিষ্ট নাগরিকরা রিট করেন।
পরিবেশ ও আইনগত দিক
২০১৫ সালের ২ ডিসেম্বর হাইকোর্টের এক রায়ে পান্থকুঞ্জকে উন্মুক্ত স্থান হিসেবে সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। একইভাবে হাতিরঝিলে বিজিএমই ভবন ভাঙা নিয়ে আপিল বিভাগের রায়ে পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছিল, জলাধার ভরাট বা ধ্বংস করে কোনো স্থাপনা করা যাবে না।
পান্থকুঞ্জে ইতিমধ্যে প্রায় ৪০ প্রজাতির দুই হাজার গাছ কাটা হয়েছে, যা পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষার পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেন আবেদনকারীদের আইনজীবী। ২০০০ সালের প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইনের ৫ ধারা অনুযায়ী উন্মুক্ত স্থান বা জলাধারের শ্রেণি পরিবর্তন করা আইনত অসম্ভব।
হাইকোর্টের রুলে বলা হয়েছে—
- পান্থকুঞ্জ ও হাতিরঝিলে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না,
- এফডিসি থেকে পলাশী পর্যন্ত সম্প্রসারণকাজ অন্য উপযুক্ত স্থানে স্থানান্তরের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না,
- এবং মগবাজার থেকে এফডিসি পর্যন্ত হাতিরঝিল জলাধার পুনরুদ্ধারের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না— তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
সড়ক পরিবহন ও সেতু সচিব, সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের পরিচালক ও সাপোর্ট টু ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের পরিচালকসহ বিবাদীদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।










