| | |

সাগরে ঘাপটি মেরে আছে ইরানি কৃষ্ণগহ্বর, মার্কিন নৌবহরে আতঙ্ক?

সাভার ডেস্ক

সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি আর ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম ফ্লিট এলাকায় আব্রাহাম লিঙ্কন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ মোতায়েন করা হয়েছে। যা ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক শক্তি প্রদর্শনের বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক প্রস্তুতির বিপরীতে ইরান তার নৌবাহিনীর সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র হিসেবে সাবমেরিন বহরকে সামনে নিয়ে আসছে। বিশেষ করে রাশিয়ার প্রযুক্তিতে তৈরি কিলার-ক্লাস সাবমেরিনগুলো এখন মার্কিন নৌবাহিনীর জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা এই কিলো-ক্লাস সাবমেরিনগুলোকে সমুদ্রের ‘ব্ল্যাক হোল’ বা কৃষ্ণগহ্বর বলে অভিহিত করেন। কারণ, পানির নিচে এগুলো অত্যন্ত নিঃশব্দে চলাচল করতে সক্ষম। প্রায় ৭৪ মিটার দীর্ঘ এই সাবমেরিনগুলোতে বিশেষ ধরনের অ্যানেকয়িক টাইলস ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে প্রতিপক্ষের সোনার সিস্টেমকে ফাঁকি দিতে পারে এরা।

সহজ কথায় বলতে গেলে হ্যারি পটারের অদৃশ্য হওয়ার পোশাকের মতোই এই টাইলসগুলো সাবমেরিনকে রাডারের চোখ থেকে আড়াল করে রাখে। প্রতিটি সাবমেরিন ১৮টি করে টর্পেডো বহন করতে পারে এবং কয়েকদিন পর্যন্ত পানির নিচে নিমজ্জিত থাকতে পারে।

ইরানের নৌবাহিনীতে বর্তমানে তিনটি তারেক-ক্লাস অর্থাৎ কিলো-ধাঁচের সাবমেরিন রয়েছে। এগুলো আশির দশকে সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল। তবে পারস্য উপসাগরে এই দানবীয় সাবমেরিনগুলোর চলাচলের ক্ষেত্রে একটি বড় সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এগুলো চালানোর জন্য অন্তত ১৬৪ ফুট গভীর পানির প্রয়োজন হয়। যা পারস্য উপসাগরের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ এলাকাতেই নেই। তাসত্ত্বেও এই সাবমেরিনগুলো যে কোনো সংকটের সময় সাগরে পণ্যবাহী জাহাজ পাহারা দেওয়া বা শত্রু জাহাজকে শনাক্ত করার ক্ষেত্রে মার্কিন নৌবাহিনীর জন্য বিশাল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

ইরানের হাতে এই শক্তিশালী সাবমেরিন ছাড়াও ফাতেহ-ক্লাস এবং গাদির-ক্লাস ছোট সাবমেরিন রয়েছে।

আপনার মন্তব্য

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

অনুসরন করুন

সর্বশেষ খবর

আর্কাইভ