চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন্ন কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে জমে উঠেছে প্রচারণা। প্রথাগত পোস্টার-ব্যানার ছাপিয়ে এবার প্রার্থীরা ভরসা রাখছেন সৃজনশীল ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগে।
বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) বেলা দুইটায় বিশ্ববিদ্যালয় রেলস্টেশন চত্বরে দেখা যায় একদল শিক্ষার্থীকে। স্টেশনের এক কোণে গিটারের সুরে সুর মিলিয়ে গান গাইছিলেন এক প্রার্থী। হাততালিতে মুখর চারপাশ। এভাবেই ভোটারদের কাছে নিজেদের বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন প্রার্থীরা।
গানে গানে প্রচারণা চালাচ্ছেন সাহিত্য, সংস্কৃতি ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বী তানজির রহমান। তিনি বলেন, “নির্বাচিত হলে সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চার পরিধি বাড়াবো। নিয়মিত প্রকাশনার ব্যবস্থা করবো। যেহেতু সংগীতের সঙ্গে যুক্ত, তাই গান দিয়েই প্রচার চালাচ্ছি।”
এদিকে প্রচারণায় যোগ হয়েছে অভিনব রূপের ব্যবহারও। ইসলামিক ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ শিমুল হোসেনকে দেখা গেছে বরবেশে প্রচারপত্র বিলি করতে। যদিও তিনি প্রার্থী নন, তিনি ইতিহাস বিভাগের দপ্তর সম্পাদক পদপ্রার্থী মো. হাবিবুর রহমানের পক্ষে প্রচার চালাচ্ছেন। শিমুল জানান, “বিভাগীয় অনুষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত অভিনয় করি। পরিচিত বড় ভাইয়ের পক্ষে একটু ব্যতিক্রমীভাবে প্রচারে নেমেছি, সাড়া ভালো পাচ্ছি।”
আগামী ১৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে চাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন। প্রায় ২৭ হাজার শিক্ষার্থী এই নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। প্রার্থী হয়েছেন ৯ শতাধিক শিক্ষার্থী, যারা ১৩টি প্যানেল থেকে অংশ নিচ্ছেন।
প্রচারণার শেষ সময়ে এসে উৎসবের রূপ নিয়েছে পুরো ক্যাম্পাস। কোথাও গান, কোথাও অভিনয়, কোথাও আবার ঐতিহ্যবাহী গম্ভীরায় ফুটে উঠছে নির্বাচনী বার্তা।
লোকপ্রশাসন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শুভ রাথ চন্দ্র বলেন, “অনেক দিন পর চাকসু নির্বাচন নিয়ে এতটা উদ্দীপনা দেখছি। সৃজনশীল প্রচারণাগুলো ক্যাম্পাসে প্রাণ ফিরিয়ে এনেছে।”
নির্বাচনকে ঘিরে ছাত্ররাজনীতির বাইরে সাধারণ শিক্ষার্থীদেরও অংশগ্রহণ এবং আগ্রহ বাড়ছে বলে মত বিশ্লেষকদের।
চাকসু নির্বাচনে এবার শুধু পদ নয়, প্রতিযোগিতা হচ্ছে ভাবনা ও সৃজনশীলতা ঘিরেও। এ কারণে প্রচারণার মাঠে তৈরি হয়েছে এক আনন্দঘন, উৎসবমুখর পরিবেশ।










