| | |

ঢাকা–আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ

ঈদযাত্রায় ভোগান্তির আশঙ্কা

হাসিবুল হাসান শান্ত

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা শুরু হওয়ার আগেই ঢাকার আশুলিয়া অংশে ভোগান্তির শঙ্কা দেখা দিয়েছে। চলমান ঢাকা–আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণকাজের কারণে ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়ক-এর আশুলিয়া অংশে সড়কের বিভিন্ন স্থানে গর্ত, উঁচু-নিচু অবস্থা ও ধুলাবালির কারণে যান চলাচল ধীরগতির হয়ে পড়েছে। এতে ঈদের সময় পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা করছেন চালক ও যাত্রীরা।

রাজধানী ঢাকা থেকে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ এই মহাসড়ক। এর সঙ্গে সংযুক্ত আব্দুল্লাহপুর–বাইপাইল সড়ক ব্যবহার করে প্রতিদিন হাজারো যানবাহন চলাচল করে। তবে আশুলিয়া এলাকায় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের পিলার নির্মাণসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত কাজ চলায় অনেক জায়গায় সড়ক সংকুচিত হয়ে গেছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) সরেজমিনে দেখা যায়, আশুলিয়া থেকে বাইপাইল পর্যন্ত বেশ কয়েকটি স্থানে সড়কের কার্পেটিং উঠে ইটের সুরকি বের হয়ে এসেছে। কোথাও ধুলোর আস্তরণ, আবার কোথাও ধুলো নিয়ন্ত্রণে পানি ছিটানোর ফলে কাদামাটির সৃষ্টি হয়েছে। পিলার নির্মাণের কাজ চলায় অনেক স্থানে ক্রেন ও নির্মাণসামগ্রী সড়কের পাশে রাখা হয়েছে, ফলে সড়ক সরু হয়ে যানজট তৈরি হচ্ছে।

বাসচালক ইসলাম খান বলেন, আগে থেকেই রাস্তার অবস্থা খারাপ ছিল। এখন নির্মাণকাজের কারণে জায়গায় জায়গায় যানজট হচ্ছে। আজও আব্দুল্লাহপুর থেকে আসতে সাড়ে তিন ঘণ্টা সময় লেগেছে। ঈদের সময় এ ভোগান্তি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।

একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে ট্রাকচালক ইমরান বলেন, জামগড়া এলাকায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার কারণে যান চলাচল আরও ধীর হয়ে যায়। এখন নির্মাণকাজ চলায় ৩০ মিনিটের রাস্তা পার হতে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় লাগছে।

তবে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম বলেন, আশুলিয়া থেকে বাইপাইল পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার অংশের মধ্যে পাঁচ কিলোমিটার পর্যন্ত সাববেস ও দুই লেনের পাথরের কাজ শেষ হয়েছে এবং তিন কিলোমিটারের বেশি অংশে কার্পেটিং করা হয়েছে। ঈদযাত্রা শুরুর আগেই ওই অংশ যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, জামগড়া থেকে বাইপাইল পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার ঢালাই রাস্তার কাজ শুরু হয়েছে। আগের দুই লেন চালু রেখেই কাজ করা হচ্ছে এবং যানজট নিয়ন্ত্রণে প্রকল্পের নিজস্ব ট্রাফিক কন্ট্রোলারও কাজ করবে।

এদিকে সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস্ ও ট্রাফিক উত্তর) আরাফাতুল ইসলাম। তিনি বলেন, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে সড়কে অতিরিক্ত পুলিশ থাকবে এবং ভাঙাচোরা অংশ দ্রুত সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

তবে স্থানীয়দের আশঙ্কা, ঈদ সামনে রেখে সড়কের চলমান কাজ দ্রুত শেষ না হলে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা এবারও ভোগান্তিমুক্ত হবে না।

আপনার মন্তব্য

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

অনুসরন করুন

সর্বশেষ খবর

আর্কাইভ