একটি চালু দোকান বন্ধ করতে রাজি না হওয়ায় গাইবান্ধার পলাশবাড়ী থানার ওসি লাঞ্ছিত হয়েছেন। এ সময় ওসিকে আক্রমণকারীদের মারধর থেকে রক্ষা করতে গিয়ে মারধরের শিকার হন থানায় কর্মরত ৯ পুলিশ সদস্য। পরে আহত পুলিশ সদস্যরা পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন। বুধবার (২৫ মার্চ) রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এদিকে পুলিশ সদস্যদের মারধরের অভিযোগে উপজেলা যুব জামায়াতের নেতা মাহমুদুল হাসান পলাশসহ নয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। গতকাল দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ারে আলম খান।
ঘটনার সময় উপস্থিত থাকা তৌহিদুল ইসলাম কানন নামে এক সংবাদকর্মীকে আটকের পর তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তিনি দৈনিক গণকণ্ঠের পলাশবাড়ী উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন বলে জানা গেছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে একটি অভিযোগপত্রসহ কয়েকজন যুবককে সঙ্গে নিয়ে পলাশবাড়ী থানায় যান স্থানীয় যুব জামায়াতের বায়তুল মাল সম্পাদক মাহমুদুল হাসান পলাশ।
পুলিশের দাবি, যুব জামায়াতের নেতা থানার ওসিকে তাৎক্ষণিকভাবে অমীমাংসিত একটি চালু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে বলেন। কিন্তু ওসি বিষয়টি করতে পারেন না উল্লেখ করে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান। তাতে সন্তুষ্ট না হয়ে তারা ওসির সঙ্গে তর্কবিতর্কে লিপ্ত হন এবং একপর্যায়ে তারা ওসির ওপর চড়াও হন। এ সময় থানায় কর্মরত উপস্থিত নয় পুলিশ সদস্য বাধা দিতে গেলে তাদেরও মারধর করা হয়। এ ঘটনায় আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন ওসি সরোয়ারে আলম, এসআই রাসেল আহমেদ, এএসআই রুহুল আমিন, এএসআই নুরুজ্জামান, এএসআই শাহ্ নেওয়াজ, এএসআই আশরাফুল, কনেস্টবল আবদুল মজিদ, কনেস্টবল সিরাজুল ইসলাম ও নারী কনেস্টবল মোস্তাকিনা।
হামলায় আহত এএসআই রুহুল আমিন বলেন, পুলিশের ওপর আক্রমণ করে থানা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় তাদের আটকাতে গিয়ে হামলার শিকার হন তিনি। এ সময় পলাশসহ কয়েকজন মারধর করে এবং ইট দিয়ে ডানহাতে আঘাত করে। এতে তার ডানহাত ভেঙে যায়। তিনি বলেন, মনে হচ্ছে এটা পরিকল্পিত হামলা। এখানে পুলিশের নিরাপত্তা কোথায়?
এ ব্যাপারে পলাশবাড়ী উপজেলা জামায়াতের আমির আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, অভিযুক্তদের এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দলীয় কেউ জড়িত থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সি-সার্কেল) এ বি এম রশিদুল বারী বলেন, পুলিশ সদস্যদের ওপর মারপিটের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত এক যুবককে আটক করা হয়েছিল। পরে তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।










