শনিবার | ৬ জুন, ২০২৬ | ২৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ | ১৯ জিলহজ, ১৪৪৭

নির্বাসনের দীর্ঘ সংগ্রাম শেষে স্বদেশে তারেক রহমান

সাভার ডেস্ক

বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান। ফাইল ছবি

অবর্ণনীয় নির্যাতন, কারাবাস আর নির্বাসনের দীর্ঘ ১৮ বছর পেরিয়ে আগামীকাল জন্মভূমিতে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

এই দীর্ঘ সময়ে প্রবাসে থেকেও নেতৃত্ব দিয়ে দলকে সংগঠিত করার পাশাপাশি ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সংগ্রাম এবং চব্বিশের জুলাই আন্দোলনেও ছিল তারেক রহমানের গুরুত্বপূর্ণ অবদান। তাঁর দেশে ফেরার ঘোষণার পর থেকেই বিএনপি নেতাকর্মী ও দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিরাজ করছে প্রাণচাঞ্চল্য।

বহুল আলোচিত ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি তথা এক-এগারোয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে গ্রেফতারের পর তারেক রহমান নির্যাতনের শিকার হন। নির্যাতনের আঘাত আর মিথ্যা মামলা নিয়ে প্রায় ১৮ বছর আগে দেশ ছেড়েছিলেন যিনি, তিনিই বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখন বহুল আকাঙ্ক্ষিত ব্যক্তিত্ব। যার অপেক্ষায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও সমগ্র বাংলাদেশ।

এক-এগারোর পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় মইনুল রোডের বাসা থেকে ২০০৭ সালের ৭ মার্চ গ্রেফতার করা হয় বিএনপির তৎকালীন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমানকে। এরপর অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে চালানো হয় অমানুষিক নির্যাতন। ওই বছর ২৮ নভেম্বর আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে নিপীড়নের বর্ণনা তুলে ধরেছিলেন তিনি।

রিমান্ড, নির্যাতন, ৫৫৪ দিন বা ১৮ মাস কারাভোগের পর ২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান তারেক রহমান। লন্ডনে যাওয়ার পরও তাঁর ওপর থামেনি মামলার খড়গ। সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ১৩টি এবং আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাঁর বিরুদ্ধে ৭২টি মামলা হয়। এর মধ্যে অন্তত পাঁচটি মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয় তাঁকে। একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় আসামি মুফতি হান্নানকে দীর্ঘদিন রিমান্ড নির্যাতন করে এক বিতর্কিত স্বীকারোক্তি নেওয়া হয়। ওই স্বীকারোক্তিকে আমলে নিয়ে একুশে আগস্ট মামলার বিচার শুরুর পর ফের সম্পূরক চার্জশিট দিয়ে সেখানে তারেক রহমানসহ আরো কয়েকজনকে জড়ানো হয়। এ মামলায় তারেক রহমানকে যাবজ্জীবন সাজা দেওয়া হয়। পরে এ মামলায় আপিলে উচ্চ আদালতে খালাস পান তারেক রহমানসহ সকল আসামি।

রায়ের পর আসামিপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, ‘একইসঙ্গে মুফতি হান্নান দু’টি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। আমরা বলেছিলাম, ৪০০ বছরের ইতিহাসে ভারতীয় উপমহাদেশে দ্বিতীয় জবানবন্দির ওপর ভিত্তি করে কাউকে সাজা দেওয়ার নজির নেই।’ রায়ে আদালত বললেন, ‘দ্বিতীয় জবানবন্দি তিনি যেটি করেছিলেন, সেটিও পরে মুফতি হান্নান প্রত্যাহার করেন। এজন্য এ জবানবন্দির কোনো আইনগত ভিত্তি নেই। এর ফলে উচ্চ আদালতে বিচারিক আদালতের রায় বাতিল করেন।’

এমনকি গণমাধ্যমেও উচ্চ আদালতের নির্দেশ দেখিয়ে দীর্ঘ সময় তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।

নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করেই সুদূর লন্ডনে থেকেই পরিচালনা করেন সংগঠন। ওয়ার্ড থেকে শুরু করে কেন্দ্র পর্যন্ত সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ভার্চুয়ালই রক্ষা করে গেছেন যোগাযোগ। এরই মধ্যে তাঁর নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ ও উজ্জীবিত হয়েছে বিএনপি।

তাঁর নেতৃত্বেই ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামে নামে বিএনপি। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানেও ছিল তারেক রহমানের অবদান। দলটির নেতাকর্মীরা তাঁর দিকনির্দেশনাতেই ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে সর্বশক্তি নিয়ে।

তাঁর বিরুদ্ধে আনা সকল মামলায় চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে আইনি লড়াইয়ে মুক্ত হন তারেক রহমান।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি নিয়মিত ফ্লাইটে যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফিরবেন তারেক রহমান। ফ্লাইটটি বুধবার যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ১২টায়) লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা হওয়ার কথা রয়েছে। তারেক রহমানের সঙ্গে সফরসঙ্গী হিসেবে একই বিমানে তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান ও কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানও আসছেন।

সব ঠিক থাকলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে বহনকারী উড়োজাহাজটি আগামীকাল ২৫ ডিসেম্বর বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবে। অবতরণের পরপরই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নিরাপত্তা ও প্রটোকল ব্যবস্থাপনা কার্যকর করা হবে।

ঢাকায় অবতরণের আগে তারেক রহমানকে বহনকরা উড়োজাহাজটি সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক ঘণ্টার যাত্রা বিরতি করবে। ঢাকা বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানাবেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। উচ্ছ্বসিত নেতা-কর্মীরা বিমানবন্দরের বাইরে অপেক্ষায় থাকবেন।

বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারেক রহমানের প্রথম ও প্রধান অগ্রাধিকার হলো— সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তাঁর গুরুতর অসুস্থ মমতাময়ী মা, বাংলাদেশের অভিভাবক দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে যাওয়া। তবে, বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে, জনগণের প্রত্যাশার প্রতি সম্মান জানিয়ে, যাত্রাপথের মাঝামাঝি রাজধানীর ‘জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়ে’ (৩০০ ফিট) এলাকায় দলের পক্ষ থেকে তৈরি করা সংক্ষিপ্ত গণঅভ্যর্থনা মঞ্চে তিনি অতি সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করবেন। সেখান থেকে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে মায়ের কাছে যাবেন।

আজ গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘বাংলাদেশ বিমানের একটি নিয়মিত ফ্লাইটে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন তারেক রহমান। দেশে প্রত্যাবর্তনের পর তিনি ৩০০ ফিট এলাকায় গণঅভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে নেতাকর্মী ও দেশবাসীর উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত ভাষণ দেবেন। এরপর সেখান থেকে এভারকেয়ার হাসপাতালে মাকে দেখতে যাবেন। সেখানে তিনি মায়ের পাশে একান্তে কিছু সময় কাটাবেন। পরে এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে গুলশান অ্যাভিনিউর ১৯৬ নম্বর বাসায় উঠবেন তারেক রহমান।’

সূত্র : বাসস

আপনার মন্তব্য

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

অনুসরন করুন

সর্বশেষ খবর

আর্কাইভ

  • Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
    1234567
    891011121314
    15161718192021
    22232425262728
    2930