বুধবার | ৩ জুন, ২০২৬ | ২০ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ | ১৬ জিলহজ, ১৪৪৭

মহান স্বাধীনতা দিবস আজ

সাভার ডেস্ক

জাতীয় স্মৃতিসৌধ।

আজ ২৬ মার্চ। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ৫৫তম বার্ষিকী। ১৯৭১ সালের এই দিনে বিশ্ব মানচিত্রে আত্মপ্রকাশ ঘটে নতুন রাষ্ট্র স্বাধীন বাংলাদেশের। একাত্তরের অগ্নিঝরা মার্চে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে অসহযোগ আন্দোলন চলাকালে ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তান সামরিক বাহিনী এ দেশের নিরস্ত্র জনগণের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে দেশব্যাপী গণহত্যা শুরুর প্রথমেই মধ্যরাতে ঢাকায় ধানমন্ডির বাসভবন থেকে শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। সেই রাতে চট্টগ্রামে ‘উই রিভল্ট’ ঘোষণা দিয়ে হানাদার পাকিস্তান বাহিনীর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট। এ অবস্থায় ২৬ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের উপ-অধিনায়ক মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। শুরু হয় ৯ মাসব্যাপী মুক্তিযুদ্ধ। পাকিস্তানের পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠী তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের (বাংলাদেশের) জনগণের স্বাধিকারের দাবি কখনো মেনে নিতে পারেননি। ব্রিটিশ শাসনের অবসানে দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিতর দিয়ে ১৯৪৭ সালে প্রতিষ্ঠা হয় পাকিস্তান রাষ্ট্র। শুরু থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানিরা সংখ্যাগরিষ্ঠ পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের ওপর শোষণ ও দমনপীড়ন চালাতে থাকে। তাদের নীলনকশার প্রথম আঘাত আসে বাঙালির মাতৃভাষা বাংলার ওপর। ১৯৫২ সালে বুকের রক্ত দিয়ে জাতির বীরসন্তানরা মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁদের এ আত্মদানের ভিতর দিয়ে জাতি উদ্বুদ্ধ হয়ে ওঠে স্বাধিকারের চেতনায়। ক্রমে তা রূপ নেয় স্বাধীনতা সংগ্রামে। মুক্তিকামী বাঙালিকে চিরতরে দমনের ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রে মেতে ওঠে পশ্চিম পাকিস্তানের কিছু রাজনীতিবিদ ও সেনাবাহিনী। ১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে নিরঙ্কুশ জয়লাভ করা সত্ত্বেও বাঙালির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে ছলচাতুরী করে পাকিস্তানি সামরিক জান্তা। সরকার জাতীয় পরিষদের প্রথম অধিবেশন স্থগিত ঘোষণা করলে এর প্রতিবাদে ১৯৭১ সালের ২ মার্চ আওয়ামী লীগপ্রধান শেখ মুজিবুর রহমান সর্বস্তরের জনগণকে নিয়ে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অসহযোগ আন্দোলন শুরু করেন। অসযোগ আন্দোলনের ২৪তম দিনে ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী সুপরিকল্পিত গণহত্যা শুরু করে। এ গণহত্যার বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধের মধ্য দিয়ে শুরু হয় মহান মুক্তিযুদ্ধ। লাখো শহীদের আত্মদান ও অসংখ্য নারীর সম্ভ্রমহানির মধ্য দিয়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুুুদ্ধে বিজয় অর্জন করে জাতি।

জাতি আজ সশ্রদ্ধচিত্তে স্মরণ করছে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের, যাঁদের সর্বোচ্চ ত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা। আজ প্রত্যুষে সূর্যোদয়ের লগ্নে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি জাতির পক্ষে শ্রদ্ধা জানাবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শ্রদ্ধা জানাবেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এ ছাড়াও জাতীয় সংসদের স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিদেশি কূটনীতিক, রাজনীতিবিদসহ বিশিষ্টজনরা শ্রদ্ধা জানাবেন। এর পরই জাতির গৌরব আর অহংকারের এ দিনটিতে সৌধ প্রাঙ্গণে ঢল নামবে লাখো মানুষের। তাদের শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় ফুলে ফুলে ভরে উঠবে জাতীয় স্মৃতিসৌধ। আজ সরকারি ছুটি। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বাণীতে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি ইনসাফভিত্তিক, স্বনির্ভর, নিরাপদ এবং কর্মমুখর বাংলাদেশ বিনির্মাণে দলমত-পথ নির্বিশেষে দেশবাসীকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার উদাত্ত আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতি সশ্রদ্ধচিত্তে ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীরউত্তমসহ সব বীর মুক্তিযোদ্ধা, নির্যাতিত মা-বোন, মুক্তিযুদ্ধের জাতীয় নেতৃবৃন্দ, সংগঠক ও সর্বস্তরের জনগণকে-যাঁরা স্বাধীনতা যুদ্ধে অসামান্য ও তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রেখেছেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাণীতে বলেন, মহান স্বাধীনতা দিবস আমাদের জীবনে সাহস, আত্মত্যাগ ও দেশপ্রেমের চেতনাকে নতুন করে উজ্জীবিত করে। স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য ছিল একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে এবং দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে।

দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে সংবাদপত্রসমূহ বিশেষ ক্রোড়পত্র, নিবন্ধ ও সাহিত্য সাময়িকী প্রকাশ করেছে। ইলেকট্রনিক মিডিয়াসমূহ মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিভিন্ন অনুষ্ঠান প্রচার করছে। মহানগর, জেলা ও উপজেলায় বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা দেওয়া হবে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসমূহে বিশেষ দোয়া ও উপাসনার আয়োজন করা হবে। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২৬ উপলক্ষে ২৬ মার্চ সকাল ৯টায় জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে কুচকাওয়াজ ও ফ্লাই পাস্ট অনুষ্ঠিত হবে। গত সোমবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্যারেড স্কয়ারের কুচকাওয়াজ ও ফ্লাই পাস্ট অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন। অনুষ্ঠানটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। প্যারেড স্কয়ারে প্রবেশ করতে হবে ২, ৩, ৪, ১০ ও ১১ নম্বর ফটক দিয়ে।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আজ বঙ্গভবনে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। অনুষ্ঠানে মন্ত্রিসভার সদস্য, রাজনৈতিক নেতা, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, তিন বাহিনীর প্রধান, সংসদ সদস্য, শিক্ষাবিদ, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ, শিল্পী, বীর মুক্তিযোদ্ধা, বীরশ্রেষ্ঠদের পরিবারের সদস্য ও বিশিষ্ট নাগরিকরা অংশ নেবেন।

আপনার মন্তব্য

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

অনুসরন করুন

সর্বশেষ খবর

আর্কাইভ

  • Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
    1234567
    891011121314
    15161718192021
    22232425262728
    2930