ঢাকার সাভারে ঢাকা জেলা পরিষদের ৩৪টি জমির লিজ বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন করে একসনা লিজ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ায় বর্তমান লিজগ্রহীতাদের কয়েকজন উচ্চ আদালতে রিট করলে চার সপ্তাহের জন্য নতুন লিজ প্রদান কার্যক্রম স্থগিত করেছেন আদালত। এ বিষয়ে জেলা পরিষদকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করবে বলে জানিয়েছে জেলা পরিষদ।
জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, সাভার পৌর এলাকার মুক্তির মোড় থেকে কাতলাপুর পর্যন্ত সড়কের পূর্বপাশে সাভার, দক্ষিণ দরিয়াপুর, কাতলাপুর ও কর্ণপাড়া মৌজায় জেলা পরিষদের মালিকানাধীন জমি বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে লিজ দেওয়া রয়েছে। এর মধ্যে ভাগলপুর জামে মসজিদের নামে লিজ নেওয়া সম্পত্তিও রয়েছে।
জেলা পরিষদের কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে নামমাত্র হারে লিজমানি পরিশোধ করা হচ্ছিল। অনেকের লিজমানি বকেয়া রয়েছে। এ ছাড়া লিজের শর্ত ভঙ্গ করে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ এবং সেসব ভাড়া দিয়ে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করার অভিযোগও রয়েছে।
এসব অভিযোগের পর জেলা পরিষদের প্রশাসক ইয়াছিন ফেরদৌস মোরাদের নির্দেশে সরেজমিন পরিদর্শন ও জমি পরিমাপ করা হয়। পরে গত ৯ জুলাই নতুন করে একসনা লিজ দেওয়ার জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। ২২ জুলাই একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে দরপত্র খোলা হলে বর্তমান লিজগ্রহীতাদের পাশাপাশি নতুন আবেদনকারীরাও অংশ নেন। জেলা পরিষদের দাবি, নতুন দরপত্রে বর্তমান লিজমূল্যের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি দর পাওয়া গেছে।
নতুন লিজ প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর বর্তমান কয়েকজন লিজগ্রহীতা উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করেন। আদালত চার সপ্তাহের জন্য নতুন লিজ কার্যক্রম স্থগিত করে জেলা পরিষদকে রুলের জবাব দিতে নির্দেশ দেন।
এরই মধ্যে গত ২৮ জুলাই জেলা পরিষদ ৩৪ জন লিজগ্রহীতার বরাদ্দ বাতিল করে চিঠি ইস্যু করে, যা তারা ২৯ জুলাই হাতে পান।
ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক ইয়াছিন ফেরদৌস মোরাদ বলেন, অনেক লিজগ্রহীতা বছরের পর বছর লিজ নবায়ন করেননি এবং লিজের শর্ত ভঙ্গ করেছেন। কেউ কেউ একাধিক নামে সরকারি জমি দখলে রেখে রাষ্ট্রকে বিপুল রাজস্ব থেকে বঞ্চিত করছেন। নতুন দরপত্রে বর্তমানের তুলনায় কয়েক গুণ, কোথাও কোথাও শতগুণ পর্যন্ত বেশি দর পাওয়া গেছে। আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে, বর্তমান লিজগ্রহীতাদের দাবি, কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা পর্যাপ্ত নোটিশ ছাড়াই লিজ বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকার চাইলে লিজের হার পুনর্নির্ধারণ করতে পারে, তবে আলোচনা বা পুনর্নবায়নের সুযোগ না দিয়ে সরাসরি লিজ বাতিল করা যৌক্তিক নয়। তারা দাবি করেন, লিজের শর্ত মেনেই স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন।









