নাশকতামূলক কার্যকলাপ ও অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির প্রস্তুতির অভিযোগে আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনের ৩১ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা জেলা পুলিশ। অভিযানে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থেকে শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদ, নারায়ণগঞ্জ সদর থানা কমিটির সহসম্পাদক রাব্বী সরদারের (২৫) কাছ থেকে একটি সচল দেশীয় তৈরি রিভলভার উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার (৭ নভেম্বর) সকালে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আনিসুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পুলিশ জানায়, বুধবার (৫ নভেম্বর) সন্ধ্যা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত ঢাকা জেলার সাতটি থানা—সাভার, আশুলিয়া, ধামরাই, কেরানীগঞ্জ মডেল, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ, নবাবগঞ্জ ও দোহার—এ একযোগে অভিযান চালানো হয়।
অভিযানের সবচেয়ে আলোচিত গ্রেপ্তার রাব্বী সরদারকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার উত্তর পানগাঁও এলাকার দোকানবাড়ি মোড় থেকে আটক করা হয়। তল্লাশির সময় তাঁর হেফাজত থেকে সচল রিভলভারটি জব্দ করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রাব্বী সরদার সম্প্রতি ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগের পক্ষে মিছিল-মিটিংয়ের অগ্রভাগে সক্রিয় ছিলেন। তিনি শেখ হাসিনার পক্ষে পোস্টার লাগানোসহ নানা রাজনৈতিক কার্যক্রমে নেতৃত্ব দিতেন। তদন্তে আরও জানা গেছে, তাঁর মোবাইল ফোনে দেশি-বিদেশি ফ্যাসিস্ট চক্রের সঙ্গে যোগাযোগের প্রমাণও পাওয়া গেছে।
গ্রেপ্তার ৩১ জনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠন—ছাত্রলীগ, যুবলীগ, শ্রমিক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ ও তাঁতী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী রয়েছেন।
তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন, সাভার উপজেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি তানজিরুল রহমান, বিরুলিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন, ধামসোনা ইউনিয়ন যুবলীগের তথ্য সম্পাদক ওবায়দুল ভূঁইয়া, ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রলীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক উপসম্পাদক পারভেজ কবীর (শাকিব), কেরানীগঞ্জ মডেল থানা শ্রমিক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আবু তাহের মন্টু, কালিন্দী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সালাম, রুহিতপুর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মো. সালমান, শুভাঢ্যা ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম জুয়েল, চূড়াইন ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক শাফায়েত হোসেন শিপু, কৈলাইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আছিফ চাকলাদার, ঢাকা জেলা তাঁতী লীগের সভাপতি রমজান আলী, দোহার থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আজাদ হোসেন খান।
ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান বলেন, ‘গ্রেপ্তারকৃতরা সবাই সক্রিয় রাজনীতিক ও মিছিল-মিটিংয়ে অংশগ্রহণকারী। নাশকতার মাধ্যমে দেশের স্থিতিশীলতা নষ্টের যে কোনো প্রচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে। এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’










