সাভারের আশুলিয়ায় ইতিহাস পরিবহনের একটি চলন্ত লোকাল বাসে এক নারী পোশাক শ্রমিককে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে বাসটির চালক ও হেলপারের বিরুদ্ধে। ইজ্জত রক্ষায় চলন্ত বাস থেকে লাফিয়ে পড়ে গুরুতর আহত হন ওই নারী। পরে তার অভিযোগের ভিত্তিতে বাসচালককে গ্রেপ্তার করেছে আশুলিয়া থানা পুলিশ। তবে অভিযুক্ত হেলপার এখনো পলাতক রয়েছে।
গ্রেপ্তার বাসচালক মো. আজিজুল শিকদার ওরফে রাজু (৩৭) গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার হরিণহাটি এলাকার বাসিন্দা। তিনি সাভারের রাজ ফুলবাড়িয়া এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে গাড়ি চালাতেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী (২৭) আশুলিয়ার ইপিজেড-১ এলাকার একটি তৈরি পোশাক কারখানায় জুনিয়র অপারেটর হিসেবে কর্মরত। গত ১২ জুলাই দিনাজপুর থেকে কর্মস্থলে ফেরার পথে রাতে চন্দ্রা চৌরাস্তায় নেমে আশুলিয়াগামী ইতিহাস পরিবহনের একটি লোকাল বাসে ওঠেন।
বাসটি শ্রীপুর বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছানোর পর অন্য সব যাত্রী নেমে গেলে চালক ও হেলপার আর কোনো যাত্রী বাসে উঠতে দেননি। এতে আতঙ্কিত হয়ে ভুক্তভোগী বাস থেকে নামিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করলেও চালক বাস থামানোর পরিবর্তে দ্রুতগতিতে চালাতে থাকেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, রাত সাড়ে ১২টার দিকে শ্রীপুর বাসস্ট্যান্ড ও ইপিজেড এলাকার মধ্যবর্তী নির্জন স্থানে পৌঁছালে বাসের হেলপার জোরপূর্বক শ্লীলতাহানি করে এবং ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এ সময় চালকও তাকে সহযোগিতা করেন।
নিজেকে রক্ষার আর কোনো উপায় না দেখে তিনি চলন্ত বাস থেকে লাফ দেন। এতে মুখমণ্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হন। পরে অন্য একটি বাসের সহায়তায় আশুলিয়া এলাকায় এসে আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং পরদিন থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার হোসেন জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য ও বিভিন্ন সূত্র বিশ্লেষণ করে অভিযুক্ত চালকের অবস্থান শনাক্ত করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধর্ষণচেষ্টায় ব্যবহৃত বাসটি জব্দ করা হয়েছে এবং ভুক্তভোগীর মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে, যা মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং পলাতক হেলপারকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।









