সোমবার | ২৫ মে, ২০২৬ | ১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ | ৭ জিলহজ, ১৪৪৭

রাবিতে আন্দোলনের মুখে ছয় ডিনের পদত্যাগ

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক, রাবি

দিনব্যাপী আন্দোলন, বিভিন্ন দপ্তরে তালা ঝুলানো এবং রেজিস্ট্রারকে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনার পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ছয়জন ডিন পদত্যাগ করেছেন।

রোববার (তারিখ) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসুদ সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

পদত্যাগকারী ডিনরা হলেন— আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক আবু নাসের মো. ওয়াহিদ, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক নাসিমা আখতার, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন অধ্যাপক এ এস এম কামরুজ্জামান, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক এস এম একরাম উল্লাহ, প্রকৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক বিমল কুমার প্রামাণিক এবং ভূ-বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক এ এইচ এম সেলিম রেজা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক আখতার হোসেন মজুমদার রাতে বলেন, “শিক্ষার্থী ও ডিনদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আলোচনায় ডিনরা তাদের দায়িত্ব পালনে অপারগতা প্রকাশ করেছেন।”

তবে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক এস এম একরাম উল্লাহ দাবি করেন, তিনি আন্দোলনের বিষয়টি অবগত নন। তিনি বলেন,
“আজ কী হয়েছে, সেটা জানি না। তবে আমরা কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি যে দায়িত্ব পালন করতে ইচ্ছুক নই।”

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, নতুন ডিন নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত পদাধিকার বলে উপাচার্য সংশ্লিষ্ট অনুষদগুলোর ডিনের দায়িত্ব পালন করবেন।

তালা, বিক্ষোভ ও ফেসবুক পোস্ট : এদিকে রোববার সকালে রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী ডিন এবং আওয়ামীপন্থি কয়েকজন শিক্ষকের চেম্বারে যান। সে সময় সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা কেউ উপস্থিত ছিলেন না।

দুপুরের দিকে কলা, সামাজিক বিজ্ঞান ও আইন অনুষদের ডিনদের কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। পরে উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, প্রক্টর, রেজিস্ট্রারসহ প্রশাসনের প্রায় সব দপ্তরের কার্যালয়েও তালা দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে সালাহউদ্দিন আম্মার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে নিজের ফেসবুক পোস্টে লেখেন, “আজ মোটামুটি সব দপ্তরে আওয়ামীপন্থিদের দপ্তরগুলো তালাবদ্ধ। বিচার না হওয়া পর্যন্ত তালাবদ্ধ থাকুক—এটাই চাই। পাশাপাশি বিগত জুলাইয়ে বিভিন্ন সময়ে শিক্ষার্থীদের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া শিক্ষকদের একটি তালিকা করেছি।”

তিনি আরও লেখেন, ছাত্রদল, ছাত্রশিবিরসহ অন্যান্য সংগঠনের কাছেও থাকা তালিকা আহ্বান করা হচ্ছে এবং আগামী তিন দিনের মধ্যে তা সংগ্রহ করা হবে।

আন্দোলনকারীরা ডিনদের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দেন।

বৈঠকের পর পদত্যাগ : পরে বিকেলে প্রশাসন ভবনে উপাচার্যের কনফারেন্স কক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈঠক হয়। রাতে আবারও আরেক দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকের পর ডিনরা পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানান।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০২৩ সালের ১৭ ডিসেম্বর শিক্ষক সমিতি, ডিন, সিন্ডিকেট, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কমিটি এবং শিক্ষা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ১২টি অনুষদের মধ্যে আওয়ামীপন্থি ‘হলুদ প্যানেল’ থেকে ছয়জন প্রার্থী ডিন হিসেবে নির্বাচিত হন। তাদের মেয়াদ ছিল চলতি বছরের ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

তবে উপাচার্য ১১ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী নতুন নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ডিনদের স্বপদে বহাল থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

আপনার মন্তব্য

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

অনুসরন করুন

সর্বশেষ খবর

আর্কাইভ

  • Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
     123
    45678910
    11121314151617
    18192021222324
    25262728293031