| | |

গণ বিশ্ববিদ্যালয়

শিক্ষার্থীকে মেসে ডেকে নিয়ে নির্যাতন

ডেস্ক রিপোর্ট

ঢাকার আশুলিয়ায় গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে মধ্যরাতে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। আহত ওই শিক্ষার্থীকে আশুলিয়ার গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সোমবার (২৪ নভেম্বর) দিবাগত রাতে সাভারের পাথালিয়া ইউনিয়নের নলাম এলাকার একটি মেসে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) ক্যাম্পাসে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর সহপাঠীরা। পাশাপাশি উপাচার্য ও বিভাগীয় প্রধান বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম শের আলী। তিনি গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ৩৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি রংপুরের পীরগঞ্জের মাহমুদপুর এলাকায়। আশুলিয়ায় একটি মেসে থাকেন তিনি। অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা হলেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২৭তম ব্যাচের অন্তু দেওয়ান ও তরিকুল; ২৮তম ব্যাচের মেহেদী হাসান ও লাবিব এবং ৩২তম ব্যাচের আশরাফুল ও আসাদ।

এ ঘটনায় বিচারের দাবিতে মঙ্গলবার সকালে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শের আলীর সহপাঠীরা। পরে তাঁরা আইন বিভাগের প্রধান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর জড়িত শিক্ষার্থীদের বিচারের দাবিতে লিখিত অভিযোগ দেন।

ভুক্তভোগী শের আলী বলেন, ‘রাতে খিচুড়ি খাওয়ার পর সবাইকে যেতে বলা হয়। কিন্তু আমাকে একা আটকে রাখে। এরপর অন্তু ভাই অশ্লীল কথা বলে টানা ৫-৬টা চড়-থাপ্পড় মারে। এরপর বলে প্যান্ট খোল, যখন অস্বীকৃতি জানাই, তখন তরিকুল ভাই আবার আমাকে মারে। এরপর আমার প্যান্ট খুলে অন্তু ভাই পেটে লাথি মারে। ৩২ ব্যাচের মেহেদি ভাই, আশরাফুল ভাই দুজন আমাকে চড় মারতে থাকে। এরপর আমি তাদের পায়ে ধরি, মাফ চাই। সেখানে ১৫-২০ জন ছিল ৩২ ব্যাচের, তাদের পায়ে ধরে বলি আমার ভুল হয়ে গেছে। এরপর আমাকে ছাড়ে। সকালে ২৮ ব্যাচের লাবিব ভাই হাসপাতালে এসে এটা আর বাড়াতে চাও, নাকি শেষ করবা বলে হুমকি দেয়। আমি এই ঘটনার যথাযথ বিচার চাই।’

অভিযোগের বিষয়ে অন্তু দেওয়ান বলেন, ‘একটু ভুল-বোঝাবুঝি হয়েছিল। মারধর করা হয়নি। মারধর বা নির্যাতনের অভিযোগটি মিথ্যা।’

গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক নকিব জাহাঙ্গীর বলেন, রাতে ওই শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে আনা হয়। তাঁর শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন আছে।

গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যসচিব কনক চন্দ্র রায় বলেন, প্রক্টর ওই বিভাগের প্রধান। বিভাগের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে বিষয়টির ব্যাপারে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে যাদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মন্তব্য

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted