১১ বছর বয়সী এক গৃহকর্মী শিশুকে দীর্ঘদিন ধরে নির্মম নির্যাতনের অভিযোগে রাষ্ট্রীয় বিমান পরিবহন সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সাফিকুর রহমান, তাঁর স্ত্রী বিথী আক্তারসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আদালতের নির্দেশে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ভুক্তভোগী শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত ও পোড়া ক্ষতের চিহ্ন রয়েছে। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটির সুস্থ হতে অন্তত দুই মাস সময় লাগতে পারে।
ভুক্তভোগীর বাবা আজ মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরের পর মুঠোফোনে জানান, গত বছরের জুন মাসে আর্থিক সংকট ও সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে তিনি মেয়েটিকে ঢাকার উত্তরার একটি বাসায় কাজে দেন। বাসাটি বিমান বাংলাদেশের এমডি সাফিকুর রহমানের। পরিবারটি মেয়েটির বিয়েসহ ভবিষ্যৎ খরচ বহনের আশ্বাস দিয়েছিল বলে তিনি জানান।

ভুক্তভোগীর বাবা বলেন, তাঁর স্ত্রী এক দশক আগে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। এরপর একমাত্র সন্তানের কষ্টের কথা ভেবে আর বিয়ে করেননি তিনি। তিনি পঞ্চগড়ের বাসিন্দা এবং বর্তমানে আশুলিয়ার একটি হোটেলে কাজ করেন।
তিনি আরও জানান, গত বছরের জুনে বিমানের এমডির বাসার নিরাপত্তা প্রহরী জাহাঙ্গীর আলমের মাধ্যমে ওই পরিবারের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। সর্বশেষ গত ২ নভেম্বর তিনি মেয়েকে সুস্থ অবস্থায় দেখে আসেন। এরপর কয়েকবার মেয়েকে দেখতে গেলে নানা অজুহাতে তাঁকে দেখা করতে দেওয়া হয়নি।
গত ৩১ জানুয়ারি বিথী আক্তার ফোন করে জানান, মেয়েটি অসুস্থ এবং তাকে নিয়ে যেতে হবে। ওই দিন সন্ধ্যায় বাসার বাইরে মেয়েটিকে তাঁর বাবার কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে মেয়েকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ভুক্তভোগীর বাবার অভিযোগ, তাঁর মেয়ের গলা, পিঠ, হাত ও পাসহ শরীরের প্রায় সব জায়গায় আঘাতের দাগ রয়েছে। পুরো শরীরে পোড়া ক্ষত এবং গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়ার চিহ্ন দেখা গেছে।
এ ঘটনায় গত রোববার উত্তরা পশ্চিম থানায় শিশু নির্যাতনের অভিযোগে একটি মামলা করা হয়। মামলায় সাফিকুর রহমান, তাঁর স্ত্রী বিথী আক্তারসহ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে। ওই দিন দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাঁদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।










