জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটে রাষ্ট্রপতি মনোনীত সদস্য হিসেবে ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. নাহরিন ইসলাম খানকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য, সাবেক ছাত্রদল ও জাকসু নেতৃবৃন্দ।
সম্প্রতি এক যৌথ বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়। বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীরা বলেন, অধ্যাপক ড. নাহরিন ইসলাম খান একজন উচ্চশিক্ষিত, অভিজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পরিচিত শিক্ষাবিদ। তাঁর দীর্ঘ একাডেমিক ও পেশাগত অভিজ্ঞতা বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বিবৃতিতে তাঁর শিক্ষাগত ও গবেষণাগত যোগ্যতার কথা উল্লেখ করে বলা হয়, অধ্যাপক নাহরিন ইসলাম খান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে জার্মানির ফ্রাইবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে Environmental Governance বিষয়ে মাস্টার্স এবং মারবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে Communication and Innovation বিষয়ে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। কর্মজীবনে তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফেলোশিপ, গবেষণা অনুদান ও সম্মাননা পেয়েছেন বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পেশাগত প্রোফাইলের কিছু তথ্য সাম্প্রতিক প্রতিবেদনেও উল্লেখ হয়েছে।
অধ্যাপক নাহরিনের রাজনৈতিক ও পারিবারিক পরিচয় প্রসঙ্গে বিবৃতিতে বলা হয়, তিনি একটি বিএনপি-সমর্থক পরিবারের সন্তান। তাঁর বাবা মরহুম এন আই খান বিএনপির কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া ছাত্রজীবনে তিনি জাতীয়তাবাদী ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং জাহানারা ইমাম হল শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন বলেও এতে দাবি করা হয়। পরবর্তী সময়ে তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
জাকসু নির্বাচন প্রসঙ্গে বিবৃতিতে বলা হয়, নির্বাচন নিয়ে অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগের প্রতিবাদে তাৎক্ষণিক পদত্যাগ করে নির্বাচন বয়কট করা তিন শিক্ষকের একজন ছিলেন অধ্যাপক নাহরিন ইসলাম খান। জাকসু নির্বাচন নিয়ে তাঁর বক্তব্যের বিষয়ে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও পৃথক প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিল।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অধ্যাপক নাহরিন ইসলাম খান বিভিন্ন গণমাধ্যমে কলাম লেখা ও টেলিভিশন আলোচনায় অংশ নিয়ে সমসাময়িক রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ে মতামত দিয়ে আসছেন। এ কারণে বিভিন্ন সময়ে তিনি সমালোচনার মুখে পড়েছেন বলেও বিবৃতিতে দাবি করা হয়।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের ৪ নভেম্বর সিরাজগঞ্জের একটি আদালতে অধ্যাপক নাহরিন ইসলাম খানের বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগে মামলা করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার সেক্রেটারি ও সিরাজগঞ্জ-২ আসনের দলীয় প্রার্থী অধ্যাপক জাহিদুল ইসলাম। মামলাটি দণ্ডবিধির ৫০০ ধারায় করা হয় বলে সে সময় একাধিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছিল।
এ ছাড়া অধ্যাপক নাহরিন ইসলাম খানকে হুমকিমূলক চিঠি পাঠানোর অভিযোগে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার খবরও গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক মানোন্নয়ন, প্রশাসনিক সুশাসন ও নীতিনির্ধারণী কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে অধ্যাপক ড. নাহরিন ইসলাম খানের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো যেতে পারে। এ কারণে সিন্ডিকেটে রাষ্ট্রপতি মনোনীত সদস্য হিসেবে তাঁকে চূড়ান্তভাবে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দাবি জানান তাঁরা।
যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক জাকসু ভিপি ও জাবি ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আশরাফ উদ্দিন খান, সাবেক সভাপতি মো. মুনির হোসাইন, মো. জসীম উদ্দিন, ইলিম মো. নাজমুল হোসেন, আশরাফুল আলম খান জুয়েল, আবদুল হাই মল্লিক পারভেজ ও জাকিরুল ইসলাম জাকির; সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. জহিরুল ইসলাম ধীমান, আবদুর রহমান বাবুল, নাজমুল হাসান অভি ও আবু সাইদ ভূঁইয়া; সাবেক সদস্যসচিব সাহেদ জুয়েল; সিনেট সদস্য ও সাবেক সহসভাপতি সাবিনা ইয়াসমিন; সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শামীমা শিল্পী ও রবিউল ইসলাম রবি এবং ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের বর্তমান সহসভাপতি হাফিজুর রহমান সোহানসহ জাবি ছাত্রদল ও বিভিন্ন হল সংসদের নেতৃবৃন্দ।









