সাভারের আশুলিয়ায় পরিচালনা পর্ষদের বিরোধকে কেন্দ্র করে একটি মাদ্রাসায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে স্থানীয় বিএনপির এক নেতা দাবি করেছেন, মাদ্রাসা দখলমুক্ত করতে স্থানীয়রা সেখানে গিয়েছিলেন।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে আশুলিয়ার শ্রীপুর এলাকায় তাহফিযুল কুরআনিল কারিম ফাযিল (স্নাতক) মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
মাদ্রাসার উপপরিচালক (প্রশাসন) ও আশরাফ চ্যারিটেবল ট্রাস্টের সদস্য সৈয়দ সানজিদ অভিযোগ করেন, স্থানীয় বিএনপি নেতা জাকির হোসেন ও ইমাম হাসানের নেতৃত্বে ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি দল লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মাদ্রাসায় হামলা চালায়। তারা মাদ্রাসার অফিস কক্ষে ভাঙচুর করে কম্পিউটার, নগদ অর্থসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র নিয়ে যায় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সানজিদের দাবি, মাদ্রাসার সামনে ট্রাস্টের জায়গায় মহাসড়কের পাশে নির্মিত একটি মার্কেট দখলকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত। তার অভিযোগ, ইমাম হাসান মার্কেটটি দখল করে রেখেছিলেন। সম্প্রতি তাকে সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর ক্ষুব্ধ হয়ে মাদ্রাসায় হামলা চালানো হয়। এর আগেও জাকির হোসেনের নেতৃত্বে মাদ্রাসায় হামলা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ধামসোনা ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও ঢাকা জেলা তাঁতী দলের সভাপতি জাকির হোসেন। তিনি দাবি করেন, সৈয়দ সানজিদের সঙ্গে মাদ্রাসার কোনো সম্পর্ক নেই এবং তিনি জোরপূর্বক মাদ্রাসাটি দখল করে রেখেছিলেন। স্থানীয়রা তাকে সেখান থেকে সরিয়ে দিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
জাকির হোসেন নিজেকে মাদ্রাসার পরিচালনা পর্ষদ ও দারুল এহসান ট্রাস্টের সদস্য এবং একজন অভিভাবক হিসেবে দাবি করেন। তার ভাষ্য, পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর তিনি সেখানে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের অনুরোধ করে চলে আসেন। পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হওয়া সত্ত্বেও সানজিদের কারণে তিনি মাদ্রাসায় যেতে পারেন না বলেও দাবি করেন তিনি।
ঘটনার বিষয়ে আশুলিয়া মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ঘটনাটি পুলিশ তদন্ত করে দেখছে।









