| | |

সাভার পৌরসভার অটোমেশন নিয়ে ভোগান্তি

নাজমুল হুদা

সাভার পৌরসভায় ট্রেড লাইসেন্স ও হোল্ডিং ট্যাক্সসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবা ডিজিটালাইজেশনের উদ্যোগ সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের জন্য ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নতুন সফটওয়্যার চালুর পর পুরোনো তথ্য না পাওয়া, লাইসেন্স নম্বর পরিবর্তন, বাংলা-ইংরেজি তথ্যের অসঙ্গতিসহ নানা ত্রুটিতে সেবা নিতে এসে হয়রানির শিকার হচ্ছেন নাগরিকরা। এ ছাড়া সফটওয়্যার বাস্তবায়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান নিমেক্স সফটওয়্যার নির্বাচন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

সরেজমিনে সাভার পৌরসভায় গিয়ে দেখা যায়, ট্রেড লাইসেন্স ও হোল্ডিং ট্যাক্স শাখায় সেবাগ্রহীতাদের দীর্ঘ ভিড়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেকে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না।

ভুক্তভোগীরা জানান, যারা দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন করে আসছেন, নতুন সফটওয়্যারে তাদের আগের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে লাইসেন্স নম্বর পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে এবং তথ্য বাংলা-ইংরেজিতে অসামঞ্জস্য দেখা দিচ্ছে।

পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ব্যবসায়ী বাচ্চু মিয়া বলেন, ২২ বছর ধরে ব্যবসা করে নিয়মিত লাইসেন্স নবায়ন করলেও এখন তার কোনো রেকর্ড পাওয়া যাচ্ছে না। সব তথ্য নতুন করে যুক্ত করতে বলা হচ্ছে, যা ভোগান্তি বাড়িয়েছে।

এদিকে, নাগরিকদের জাতীয় পরিচয়পত্র, হোল্ডিং, কর ও সম্পত্তিসংক্রান্ত তথ্য নতুন সফটওয়্যারে স্থানান্তরের কারণে তথ্যের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকে।

সাভার পৌরসভার হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছামসুদ্দিন বলেন, সফটওয়্যার পরিবর্তনের বিষয়ে মাসিক সভায় কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা নিজ উদ্যোগে করেছেন। তিনি দাবি করেন, সাবেক কর নির্ধারক নাজমুল আলমের স্ত্রীর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান এই সফটওয়্যার পরিচালনা করছে। তবে তথ্য নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

অভিযোগ রয়েছে, সাবেক কর নির্ধারক নাজমুল আলম বর্তমানে অন্যত্র কর্মরত থাকলেও এই সফটওয়্যারের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে জানান।

পৌরসভার ট্রেড লাইসেন্স ও হোল্ডিং ট্যাক্স বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, নতুন সফটওয়্যারের সঙ্গে আগের ডাটাবেজের সমন্বয় না থাকায় কাজের চাপ ও জনভোগান্তি বেড়েছে।

ট্রেড লাইসেন্স পরিদর্শক মো. আবদুল মোত্তালিব বলেন, নতুন সফটওয়্যারের কারণে তারাও বিব্রত। সফটওয়্যার বাস্তবায়নের বিষয়ে বিস্তারিত জানেন না।

ট্যাক্স আদায়কারী মিজানুর রহমান বলেন, সফটওয়্যারটি নিয়ে তারা জটিল পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন। তার দাবি, নিমেক্স সফটওয়্যার নামে প্রতিষ্ঠানটি সাবেক কর নির্ধারক নাজমুল আলমের স্ত্রীর পরিচালিত।

তবে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইদুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, অটোমেশনের ফলে জনবল ও কাগজপত্রের ব্যবহার কমেছে এবং গত বছরের তুলনায় রাজস্ব আদায় চার গুণ বেড়েছে। তার দাবি, সফটওয়্যারটি প্রয়োজনীয় যোগ্যতা বিবেচনা করেই ব্যবহার করা হচ্ছে।

সাভার উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন খান নঈম বলেন, ডিজিটালাইজেশনের উদ্দেশ্য জনগণের ভোগান্তি কমানো। কিন্তু ত্রুটিপূর্ণ সফটওয়্যার ব্যবহার করলে সেটি গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি অভিজ্ঞ ও সরকারি স্বীকৃত আইটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অটোমেশন কার্যক্রম পরিচালনার দাবি জানান।

সাভার পৌরসভার প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, নিমেক্স সফটওয়্যার দেশের আরও কয়েকটি পৌরসভায় কাজ করছে। সাবেক কর নির্ধারক নাজমুল আলম সরকারি চাকরিতে থাকায় তিনি সরাসরি কোম্পানির মালিক হতে পারেন না, তবে তার স্ত্রী প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারহোল্ডার। নতুন সফটওয়্যারে কিছু ত্রুটি রয়েছে স্বীকার করে তিনি বলেন, সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তি দ্রুত দূর করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

আপনার মন্তব্য

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted