ভারতের কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত নয়জনের একজন সাভারের আমিনবাজারের কসমেটিক ব্যবসায়ী আহমেদ বাবু (৩৭)। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আমিনবাজারের বেগুনবাড়ি এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারি আর প্রতিবেশীদের ভিড়ে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে কলকাতার নিউ মার্কেটের কাছে মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি ভবনের তৃতীয় তলায় অবস্থিত ‘শিখা ইন’ হোটেলে আগুনের সূত্রপাত হয়। এ ঘটনায় শিশুসহ নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত আটজন। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশের নাগরিক বলে জানিয়েছে কলকাতায় বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশন।
নিহত বাংলাদেশিদের একজন আহমেদ বাবু সাভারের আমিনবাজারের বেগুনবাড়ি এলাকার আদম আলীর ছেলে। চার ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট। তার স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছে। মেয়ে রোজার বয়স আট বছর এবং ছেলে সোয়াদের বয়স পাঁচ বছর।
আমিনবাজারের এম এ হোসেন টাওয়ারে ‘কিউট কসমেটিক্স’ নামে বাবুর একটি প্রসাধনীর দোকান রয়েছে। পরিবারের সদস্যরা জানান, ব্যবসায়িক কাজে সোমবার রাতে কলকাতায় যান তিনি। দীর্ঘদিন ভারতের ভিসা বন্ধ থাকায় প্রায় দুই বছর পর ব্যবসার কাজে কলকাতায় গিয়েছিলেন বাবু।
বাবুর মেজো ভাই মনির হোসেন বলেন, ‘ভারতে যাওয়ার আগে স্বাভাবিকভাবেই পরিবারের সঙ্গে কথা বলে গিয়েছিলেন বাবু। কিন্তু কলকাতার হোটেলে আগুন লাগার পর থেকে তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।’
বাবুর স্ত্রী জানান, কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ আবাসিক হোটেলে উঠেছিলেন তার স্বামী। সেখানে অগ্নিকাণ্ডের সময় হোটেলের ভেতরে আটকা পড়ে তার মৃত্যু হয়।
তিনি বলেন, ‘দুপুরে ভারতীয় হাইকমিশন থেকে মোবাইল ফোনে বাবুর নিহত হওয়ার খবর জানানো হয়। পরে হাইকমিশন থেকে নিহতের ছবি পাঠানো হলে পরিবারের সদস্যরা তা দেখে বাবুকে শনাক্ত করেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে দ্রুত আমার স্বামীর মরদেহ দেশে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের জন্য সরকারের সহযোগিতা চাই।’
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আহমেদ বাবু এলাকায় একজন পরিচিত ব্যবসায়ী ছিলেন। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই বেগুনবাড়ি এলাকায় শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে চারপাশ।
বাবুর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে পরিবারের পক্ষ থেকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।









