জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নূরুল ইসলাম, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মো. শামসুল আলম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহস্মদ নজরুল ইসলাম এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. সোহেল রানাকে সংবর্ধনা দিয়েছে প্রাক্তন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ফোরাম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান অডিটোরিয়ামের সেমিনার কক্ষে ‘সংবর্ধনা জ্ঞাপন ও আলোচনা অনুষ্ঠান’ শীর্ষক এ আয়োজন করা হয়।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সপ্তম জাকসুর এজিএস ও প্রাক্তন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ফোরামের সাবেক আহ্বায়ক আব্দুল আউয়াল মোল্লার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত উপাচার্য, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ও কোষাধ্যক্ষ । এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান ছাত্রদলের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহস্মদ নজরুল ইসলাম নিজের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিজীবনের নানা স্মৃতিচারণা করেন। তিনি বলেন, ১৯৯৬ সালে রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার পর প্রক্টর বায়েজিদ স্যারের শোকজের জবাব দিতে গিয়ে তিনি বিএনপিপন্থী শিক্ষক হওয়ার বিষয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হন।
বন্ধুদের দেওয়া চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, অধ্যাপক জোসিম স্যারের হাত ধরে মাস্টার্সে দুবার গোল্ড মেডেল অর্জনের পর তিনি প্রথম নিয়োগ পান। জাতীয়তাবাদী আদর্শের মেধাবী শিক্ষকদের নিয়োগের মাধ্যমে জোসিম স্যার শিক্ষক ফোরামকে শক্তিশালী করেছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এ ছাড়া জোসিম স্যারের সহধর্মিণীর একটি রসাত্মক মন্তব্য এবং নিজের বিয়ের ঘটকালি নিয়ে মজার স্মৃতিও তুলে ধরেন।

দীর্ঘ ৩০ বছরের রাজনৈতিক জীবনের প্রায় ২০ বছর বিরোধী দলে কাটানোর অভিজ্ঞতা তুলে ধরে অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, বিগত ১৬ থেকে ১৭ বছরসহ ফ্যাসিস্ট আমলে শিক্ষার্থীদের ওপর নানা ধরনের নিপীড়ন হয়েছে। সে সময় নিজে গাড়ি চালিয়ে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশ নিতে সহায়তা করার কথাও স্মরণ করেন তিনি। শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করতে পারলেই পদে থাকার সার্থকতা আসবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সমাপনী বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নূরুল ইসলাম বলেন, অতীতের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে বর্তমান প্রশাসন জাতীয়তাবাদী আদর্শের মেধাবীদের মূল্যায়ন করতে চায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সেশনজট নিরসনে একাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রণয়ন ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে অটোমেশন চালুর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় সক্ষম করে তুলতে কারিকুলাম আধুনিকায়ন ও আউটকাম বেইজড এডুকেশন (ওবিই) পদ্ধতি চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক চাকরির বাজারের উপযোগী করে গড়ে তুলতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাঙ্গুয়েজ সেন্টারকে ইনস্টিটিউটে রূপান্তরের পরিকল্পনার কথাও জানান উপাচার্য। এর মাধ্যমে জার্মান, ফরাসি, চীনা ও রুশ ভাষাসহ তৃতীয় ভাষা শেখার সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
এ ছাড়া শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংযোগ বাড়িয়ে শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির ওপর গুরুত্ব দেন উপাচার্য। বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্ব র্যাংকিংয়ে এগিয়ে নেওয়া এবং সবুজ ও পরিচ্ছন্ন ক্যাম্পাস গড়ে তোলার লক্ষ্যে অ্যালামনাইদের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে আবাসিক হল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো সংস্কারে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা কামনা করেন।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে উপাচার্য দলমত-নির্বিশেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অংশীজন ও ছাত্রসংগঠনকে ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে দেশের শিক্ষার উন্নয়ন ও অভীষ্ট লক্ষ্য বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। সংবর্ধনা আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদও জানান তিনি।









